সুবর্ণচরে নারী নির্যাতনের ঘটনা

‘দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক’

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৪

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নারী নির্যাতন ঘটনাকে নিন্দনীয় এবং শাস্তিযাগ্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত হোক তাদের কেউ পার পাবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এ ব্যাপারে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব জানি। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে। ইতোমধ্যে পুলিশের আইজির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ওই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররাও বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখছেন। এটাই কাম্য বলে জানিয়েছেন নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মীরা। লিখেছেন রাবেয়া বেবী

তাদের এই অর্জন অর্থবহ করতে নারী নির্যাতন বন্ধ ও নারীর অসম্মান করা

বন্ধ করতে হবে

—ডা. মালেকা বানু

 সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

এই ঘটনাগুলো সবসময় ঘটে থাকে, নারীকে সবসময়ই তা সহ্য করতে হয়। এ বছর আমরা বার বার সতর্ক করছিলাম নির্বাচন আগে ও পরে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক দৃষ্টি ও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারপরও শিশুদের সামনে মাকে চরম লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে। মহিলা পরিষদ এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। এই ঘটনার কেউ পার পাবে না বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমরা তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। এমন কোনো ঘটনা ভবিষ্যতেও যেন না ঘটে তেমন সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র তার সকল নাগরিককে নিরাপত্তা দিবে এটাই আমাদের কাম্য। এ বছর আওয়ামী লীগ বিপুল ভটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করছে। তাদের এই অর্জন অর্থবহ করতে নারীর নির্যাতন বন্ধ ও নারীর অসম্মান করা বন্ধ করতে হবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই কিছু দিন পরে আমরা এমন ঘটনাগুলো থেকে চোখ ফিরিয়ে নেই, সেই সুযোগে অপরাধী পার পেয়ে যায়। আমি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা যতদিন পর্যন্ত অপরাধীর বিচার না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই গুরুত্ব বজায় রেখে ফলোআপ করতে হবে।

 

যে বাচ্চাদের সামনে মাকে অত্যাচার করা হয়েছে, সে বাচ্চারা কি কোনো দিন ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে?

—অ্যাডভোকেট সালমা আলী

মানবাধিকার আইনজীবী

বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নারীকে বারবার এমন সহিংসতার মুখে   ফেলে দেয়।গণতন্ত্র হলো ‘রুল অব ল’। এমন ঘটনার যথাযথ          তদন্ত করে বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যে বাচ্চাদের সামনে মাকে অত্যাচার করা হয়েছে, সে বাচ্চারা কি             কোনো দিন                ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। আমরা কি সে বাচ্চাগুলোর কথা ভাবছি।              তারা কি স্বাভাবিক জীবন  পাবে? এর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। সবারই ভোট দেয়ার অধিকার আছে।  সে অধিকার প্রয়োগ করলে কেউ এমন   শাস্তি পাবে, তা           কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু আমরা মেনে নেই। এই নির্যাতন বন্ধে মহিলা আইনজীবী সমিতিতে অনেক বছর কাজ           করেছি। এই ক্ষেত্রে অনেক আইন করার সাথে জড়িত ছিলাম। দেশে অনেক ভালো ভালো আইনও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন কোথায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নারী নির্যাতিত হবে, আর রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাবে- তা আর হতে দেয়া যায় না। আমি এমন পরিস্থিতি ও অপমান থেকে নারী সমাজের মুক্তি দেখে যেতে চাই। স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার ও দায়বদ্ধতার পরিবেশ খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে নারী নির্যাতনকারী রাজনৈতিক পরিচয়ে পার

পেয়ে যাওয়া রোধ করতে হবে

—রাশেদা কে চৌধুরী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

নির্বাচনের আগে ও পরে যেন নারী, প্রবীণ, শিশু ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা পায়, সে বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই বলা হয়েছে। তারপরও লজ্জার সাথে বলতে হয়- এমন ঘটনা ঘটেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা যেন আর একটিও না ঘটে সে ব্যবস্থা যেমন নিতে হবে, তেমন এই ঘটনার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারী সংখ্যালঘু নির্যাতন এখন একটা রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে। তাই এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। এটি আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তারপরও আমরা দেখি এমন ঘটনা ঘটে। আবার রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যায়। গবেষণা থেকে আমরা জানতে পারি শতকরা ৩ শতাংশ নারী নির্যাতনের বিচার হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়- বিচারহীনতা এই কাজকে আরও উত্সাহিত করে। দুর্বলের জন্য  আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কেমন দেখি? কিন্তু দুর্বলের পাশেই তাদের বেশি প্রয়োজন। দুর্বলের ওপর অত্যাচার হলে আরএকটু বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন বছরে নতুন সরকার বিশাল মেন্ডেট নিয়ে এসেছে। তাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে- নারী নির্যাতনকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাওয়া রোধ করতে হবে। অপরাধী অপরাধীই- এটি কথায় নয়, কাজে প্রমাণিত করবেন। 

 

ধানের শীষে ভোট দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে ধর্ষণ ঘটনায় নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন

—ফরিদা ইয়াছমিন

আন্দোলন সম্পাদক, নারীপক্ষ

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং চর জুবিলি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রুহুল আমীন এই নারীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তা সত্ত্বেও এই নারী ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রুহুল আমীনের নেতৃত্বে ১০/১২ জন তার স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় নারীপক্ষ ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যক্তিবর্গের কাছে নারীপক্ষ জোর দাবি জানাচ্ছে, অনতিবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ষণকারী প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। সেইসাথে আমরা আরো দাবি করছি যে, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে আর একটিও ধর্ষণ বা সহিংসতার ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকারী দল আওয়ামী লীগের অবশ্যই নিতে হবে। নারী সংগঠন হিসেবে আমাদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেত্রীবৃন্দ অতিসত্বর এ বিষয়ে সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।