নতুন বছরে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠুক সহশিক্ষাসমৃদ্ধ শিক্ষায়

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৫

 

নতুন বই, নতুন ক্লাস, নতুন স্কুল—সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি আশা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বছর। এই উত্সবমুখর সময়ে আগামী প্রজন্মের প্রধিনিধিদের সঠিক ও সমৃদ্ধ শিক্ষার জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অনেক। ইত্তেফাক ফিচার পাতা ‘প্রজন্ম’ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই আমাদের এবারের আয়োজনে উঠে এসেছে তেমনই কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহশিক্ষা কার্যক্রমের চিত্র।

 

 

 

সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীর অন্তর্লোক গঠনে ট্রাস্ট

শিক্ষার সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীর অন্তর্লোক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রাস্ট কলেজে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনেক সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। এখানে বার্ষিক শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতা, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বনভোজন, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, নবাগত সংবর্ধনা, কৃতী সংবর্ধনা, বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, সেবামূলক কার্যক্রম, সেমিনার, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শিক্ষামূলক জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, ঈদ পুনর্মিলনী ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রয়েছে সায়েন্স ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ছাত্র উপদেষ্টা ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব, রাইটার্স ক্লাব, আবৃত্তি সংঘ। ট্রাস্ট স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিনের ক্লাসের পাশাপাশি রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চারও ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুল পর্যায়ের সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য পাঠপরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়। উত্তরার প্লট ২৭, ৩৫ ও ৩৬, রোড ৫, সেক্টর ১৩ অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা, নোটসংস্কৃতি, পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্তকরণ বা সাজেশন নির্ভরশীলতা পরিহার করে শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ সিলেবাস সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতে সর্বদা দৃঢ় প্রত্যয়ী এই স্কুল। সৃজনশীল কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্বায়ন উপযোগী, আলোকিত মানুষ ও দক্ষ জাতি গঠনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। এখানে অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন বিশিষ্ট শিক্ষা-উদ্যোক্তা বশির আহাম্মেদ ভূঁইয়া। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে জিপিএ-৫-সহ ১০০% পাস। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের গড় পাসের হার জিপিএ-৫সহ ৯৮.৫%। বিগত ৮ বছরে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫-সহ পাসের হার উল্লেখ্যযোগ্য, ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষ ২০টি কলেজের অন্যতম স্থান অর্জন করে ট্রাস্ট কলেজ।

 

 

সহশিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রাধিকার উত্তরা হাই স্কুলের

উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষর্থীরা এখন সাধারণ ব্লাকবোর্ডে অভ্যস্ত নয়, তারা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে বাস্তবচিত্র সমেত দিনের পড়া দিনেই বুঝে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা লাইব্রেরিতে বসে শুধু গ্রন্থকীট নয়, অনলাইনে বিচরণ করছে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজের ইকো লাইব্রেরি থেকে জগদ্বিখ্যাত মাইক্রোসফট কার্যালয়ের ক্যারিয়ার ফেস্ট তথা নাসার গবেষণা কেন্দ্রেও। প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মেয়েদের জন্য হলদে পাখী, গালর্স গাইড, গার্লস ইন স্কাউট এবং ছেলেদের জন্য কাব ও বয় স্কাউটসহ প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বিতর্কানুষ্ঠান আয়োজন ও রেডিও-টেলিভিশনে জাতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও বিশেষ দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের লেখাসমৃদ্ধ একটি সাময়িকী (ম্যাগাজিন) প্রকাশ, বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখার জন্য বিজ্ঞান মেলার আয়োজন ও সমাজ সেবামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করা। এ ছাড়া বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ২০১৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম থেকে দশম স্থান ও জাতীয় পর্যায়ে দুজন তৃতীয় স্থান অর্জন করে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। নিজস্ব বৃহদাকার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা ও সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগারে ব্যবহারিক ক্লাস, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও গ্রন্থাগারে অধ্যয়ন ও পুস্তক বিলির সুব্যবস্থা এখানে বিদ্যমান। কলেজটি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত গভর্নিং বডি, দক্ষ অধ্যক্ষ এবং একঝাঁক মেধাবী শিক্ষক কর্তৃক পরিচালিত। উত্তরায় ব্যয়বহুল অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সীমিত ব্যয়ের মানসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রমোন্নয়নের এক চমত্কার ধারা অব্যাহত রেখে শতকরা পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে তৃতীয়, চতুর্থ এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জনসহ বছরব্যাপী উপহার দিচ্ছে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আফছার উদ্দিন খান এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং মো. ফরিদুর রহমান এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

 

 

 

 

সহশিক্ষা কার্যক্রমে সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনে মাইলস্টোন কলেজ 

একাডেমিকভাবে সেরা ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও নিজেদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বিতর্ক, বিজ্ঞান, কুইজ, আবৃত্তি, সংগীত, ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল, ফটোগ্রাফি প্রতিটি বিষয় ভিত্তিক ক্লাবের মাধ্যমে সারা বছরই এখানে চলে সহশিক্ষা কার্যক্রম। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন মেলার আয়োজন ছাড়াও প্রতিবছর মাসব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও দেয়াল লিখন উত্সব অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত আন্তঃকলেজ খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মহিলা ক্রিকেট দল ২০১৪, ২০১৬ সালে মহানগরী এবং ২০১৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয় করে। ভলিবল দল ২০১৩ ও ২০১৬ সালে মহানগরী পর্যায়ে, ২০১৪ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফুটবলে ২০১৩ সালে মহনগরী পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি জয় করে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফুটবল দল। উত্তরা মডেল টাউনে নাগরিকদের সুশিক্ষার সুযোগ বলতে তেমন কিছুই ছিল না, মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য ভরসা করতে হতো দূরদূরান্তের প্রতিষ্ঠানের ওপর। ঠিক এমনই এক ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা কর্নেল নুরন্ নবী (অব.) উত্তরায় প্রতিষ্ঠা করেন মাইলস্টোন কলেজ। প্রতিষ্ঠার এক দুই বছরের মধ্যেই সবার নজর কাড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর মেধাতালিকা পদ্ধতি থাকাকালীন ১৩ বার দেশসেরা ও বোর্ডের মেধাতালিকায় স্থান, সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে শতভাগ পাসসহ বোর্ড এবং পাবলিক পরীক্ষায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্যের রেকর্ড। কলেজটি ২০০৮ সালে ঢাকা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণী ISO ৯০০১:২০১৫। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন প্রফেসর মো. সহিদুল ইসলাম। উত্তরা মডেল টাউন ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লে. কর্নেল এম কামালউদ্দিন ভূঁইয়া (অব.)। মাইলস্টোন স্কুূল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত আছেন মো. মাসুদ আলম। ৪৪ গরিব-এ নেওয়াজ এভিনিউ, সেক্টর-১১, উত্তরা মডেল টাউন ক্যাম্পাস ছাড়াও উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন দিয়াবাড়িতে ২০ বিঘার সুবিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাস।

 

 

জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে সাউথপয়েন্টের অর্জন

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাউথপয়েন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের অর্জন প্রশংসনীয়। প্রতিষ্ঠানটির স্পোর্টস ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, ডিবেট ক্লাব ও কালচারাল ফোরাম রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এদের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো হলো—২০১৮-এর নভেম্বরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্লাব কাপ থ্রোবল প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হয় এই কলেজ। একই প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ২০১৮-এর বিজয় দিবসে তারা দ্বিতীয় রানার আপ হয়। একই বছর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে'বিজয় দিবস কারাতে প্রতিযোগিতায় ৫টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে সাউথ পয়েন্ট স্পোর্টস ক্লাব। একই বছর শ্রীলংকার কলোম্বতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জুনিয়র দাবা প্রতিযোগিতায় পঞ্চম স্থান অর্জন করে এই ক্লাব। এ ছাড়াও সাউথপয়েন্টের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সকল দিবসে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে থাকে। বিতর্ক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রয়াস চলে এখানে নিরন্তর। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার শুধু শতভাগই নয়, বছরব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে জিপিএ ফাইভ ও গোল্ডেন ‘এ’ প্লাসের সংখ্যাও। গত বছরও গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথপয়েন্টের। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং উক্ত বছরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান লাভ করে। ২০০২ সালে ২০০ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে শুরু করে মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধানে প্রায় ১২০০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে এই প্রতিষ্ঠানে। প্রথমে শুধু স্কুল সেকশন দিয়ে শুরু করলেও ২ বছরের ব্যবধানে খোলা হয় এর কলেজ সেকশন। বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মিরপুর ও উত্তরা—মোট ৫টি শাখা। প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান সমাজ হিতৈষী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এমএ রশিদ। এখানে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন অধ্যক্ষ মিসেস হামিদা আলী।

 

 

 

পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে সৃজনশীলতায় অনন্য আইইএস স্কুল   

কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা দিয়ে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন তথা মেধা বিকাশে সহায়তা করছে। তেমনি একটি প্রতিষ্ঠান উত্তরাস্থ আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮২ সাল থেকে শুধু লেখাপড়া বা পাস-ফেলের বিচারেই নয়, এলাকাভিত্তিক মেধা প্রতিযোগিতা; যেমন :বিজ্ঞান মেলায় ও খেলাধুলায় এরা শীর্ষস্থানসহ বিভিন্ন স্তরে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। এদের উল্লেখযোগ্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো হলো গ্রুপওয়ার্ক, অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্টেজ পারফরম্যান্স, বক্তৃতা প্রদান ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীর উত্তরাস্থ আইইএস উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিবছর বর্ণাঢ্য বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে। গত বছরে আয়োজিত মেলায় প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মোট ৬৫টি গ্রুপ তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব মো. মনজুরুল হক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যেমনি ভালো ফলাফলের অধিকারী, তেমনি তারা মেধাবীও। কারণ, তারা সাজেশন ও নোটবিহীন কেবল মূল পাঠ্যই অনুশীলন করে। যার প্রতিফলন রয়েছে বোর্ড ফলাফলেই; যেমন :সদ্যসমাপ্ত সমপানী ও জেএসসি পরীক্ষায়ও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ ৭০ জন প্রথম বিভাগ পায়। এদের কলেজ সেকশনটি নতুন হলেও এইচএসসি প্রথম ব্যাচের ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ‘এ’ প্লাস পায় ৩ জন এবং পাসের হার ছিল ১০০%। পক্ষান্তরে আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ৯৯% ‘এ’ ও ‘এ’ মাইনাস গ্রেড প্রাপ্ত সাধারণ মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ওদের ২০% শিক্ষার্থীই পাচ্ছে জিপিএ ৫। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই ক্রমান্বয়ে এভাবে ভালো করছে। বর্তমানে স্কুল সেকশনের ভর্তি কার্যক্রম চলছে। উত্তরা মডেল টাউনের সেক্টর-০৫, রোড-৬/এ চমত্কার নির্মল পরিবেশে সবুজ মাঠ বেষ্টিত নিজস্ব ভবনে আবাসিক সুযোগ-সুবিধাসহ নিবেদিতপ্রাণ অধ্যক্ষ ও দক্ষ শিক্ষকদের কঠোর তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে বালক-বালিকা পৃথক শাখায় শিশু শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদান করা হয়। আছে আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যবস্থা এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের ফ্রি আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়।

 

 

শিক্ষাকে অধিকতর মেধাভিত্তিক করার প্রয়াসে নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ মডেল স্কুলের 

নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে রয়েছে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার ও পর্যাপ্ত সংখ্যক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম। খেলাধুলার জন্য রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ, সায়েন্স ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব ও ফটোগ্রাফি ক্লাব। এ ছাড়া আন্তঃস্কুল ও কলেজ ফুটবল ও হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগে অত্র প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় পর্যায়ে রানার আপ হওয়ার কৃতিত্ব অর্জনসহ ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করে এই স্কুল। শিক্ষার্থীদের রয়েছে একক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কৃতিত্ব। গুগল সার্চ ইঞ্জিনের একটি সমস্যা লাঘবে অবদান রেখে আর্থিক পুরস্কার অর্জনের ব্যাপারটি শুধু এই প্রতিষ্ঠানেরই না সমগ্র দেশের জন্যই একটি গৌরবোজ্জ্বল ব্যাপার।

নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতি বছর প্রচুর শিক্ষার্থী পিইসিই, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফলাফল করে। এদের কলেজ শাখাটি সদ্য প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অত্র প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক জিপিএ-৫ প্রাপ্তি সহ শতভাগ পাশের কৃতিত্ব রয়েছে। ২০১৩ সালে অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০৩ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে এবং একই বছর ১০ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়। নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি এডভোকেট মো. আবু হানিফ ও কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুনুর রশিদ অত্যন্ত যোগ্য ও পরিশ্রমী একদল শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বল্প আয়ের জনসাধারনের জন্য গুণগত মানের শিক্ষাদানে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গুণগতমানের শিক্ষাদানে অত্র প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষা যেহেতু শুধু গলাধকরণের জন্য নয় এবং এটি যেহেতু হূদয়ঙ্গম করার বিষয়, তাই শিক্ষাটাকে আমরা অধিকতর মেধাভিত্তিক করার প্রয়াস অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছি।’

 

 

 

সহশিক্ষার মাধ্যমে মানবিক বিকাশে সৃষ্টি শিক্ষা পরিবার

সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের সৃজনশীল শিক্ষা তথা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের বাইরেও আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এখানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রত্যেকে বয়সে তরুণ। উপাধ্যক্ষ মো. মাসুম সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভোর হতেই এখানে তারুণ্যের হাট বসে, আমরা একঝাঁক তরুণ এই পরিবারে একে অপরের সহযোগী-সহমর্মী। উদ্দেশ্য, সৃষ্টিকে একটি আলোকিত শিক্ষা পরিবারে পরিণত করা, যেখান থেকে বের হবে জ্যোতির্ময় আলোকিত ভবিষ্যত্, যাদের হাত ধরে এই দেশ হবে দ্যুতিময়।’ টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে টগবগে তরুণ ড. শরীফুল ইসলাম রিপন পিএমজেএফ দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সৃষ্টি কলেজ অব টাঙ্গাইল। গুণগত মানসম্পন্ন আধুনিক ও আদর্শিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কারণে এর পাওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এরপর প্রতিষ্ঠিত হয় সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, গাজীপুর, আশুলিয়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে। মাত্র ২ যুগে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হয় ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সুশিক্ষা বলতে ফলাফলনির্ভর শিক্ষা নয়, জ্ঞানভিত্তিক প্রকৃত মানবীয় গুণাবলি অর্জনের শিক্ষাই এখানে নিশ্চিত করা হয় বলে জানান এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. শরীফুল ইসলাম রিপন পিএমজেএফ। যার ফলে দেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় এদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হারও অনেক। অনুরূপ বোর্ড ফলাফলেও রয়েছে সাফল্যের তিলক। যেমন :বোর্ডস্ট্যান্ড ছিল ১০ জন এবং ক্যাডেট কলেজের প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ১৩৭ জন। এদিকে বিভিন্ন সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ১১৩৮ জন গোল্ডেন এ+ ও এ+ এবং ৪৪৯০ জন এ গ্রেড পায়। অনুরূপ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৩৬৩৯ জন গোল্ডেন এ+ ও এ+ এবং ৪৫১৩ জন এ গ্রেড ও ৫১৫ জন স্টার মার্কস পায়। জেএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায়ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল। ২৩৮৫ জনের এ+/ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ৩১৬৭ জন এ গ্রেড/সাধারণ বৃত্তি পায়। অনুরূপ পিইসিই/প্রাইমারি বৃত্তি পরীক্ষায়ও। ২০৬৬ জনের এ+/ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ১৬১১ জন এ গ্রেড/সাধারণ বৃত্তি পায়। সৃষ্টি পরিবারের স্বপ্ন, ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীরা সর্বোন্নত শিক্ষা গ্রহণ করবে এই প্রতিষ্ঠান থেকে।