>> মেহেদী হাসান গালিব
গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ব্রেক দ্য সার্কেল’-এর ৮ম পর্ব। এর আয়োজন করে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিভিন্ন আলোকচিত্রীর মোট ৪৫২৮টি ছবি জমা হয় প্রদর্শনীর জন্য। এতগুলো ছবির মধ্য থেকে সিঙ্গেল ক্যাটাগরিতে সেরা ৭৭টি ছবি এবং ফটো স্টোরি ক্যাটাগরিতে সেরা ৯টি ছবি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। সিঙ্গেল ক্যাটাগরিতে বাছাইকৃত ৭৭টি ছবির মধ্য থেকে সেরা ছবি নির্বাচিত হয় আকাশ দাস আবীরের ‘আফটার দ্য ডেথ’। আকাশ যখন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র, তখন থেকেই ছবি তোলার প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করতেন। বন্ধুদের ছবি তোলা দেখে তারও ইচ্ছে হতো ছবি তুলতে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তকে ক্যামেরার চোখে বন্দী করে রাখতে। কিন্তু ক্যামেরা কিংবা মোবাইল না থাকায় ছবি তোলা হতো না আকাশের। পরে ২০১৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শুরু হয় আকাশের জীবনের এক নতুন অধ্যায়। হাতে পান ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল। সেই মোবাইল দিয়েই আকাশ শুরু করে দেন ছবি তোলা। যুক্ত হোন জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সঙ্গে। নিয়মিত বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, ফটোওয়াক ও এক্সিবিশনে অংশ নিয়ে শিখতে থাকেন ফটোগ্রাফির নতুন নতুন সব বিষয়। এরপর ২০১৬ সালে একটি ক্যামেরা কিনে ফেলেন তিনি। ছবি তোলায় যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। মন খারাপ কিংবা বিষণ্ন থাকলেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েন আকাশ। রাস্তায় চলমান জীবনের গল্প লিখে ফেলেন ক্যামেরার চোখে। হাসি-কান্না-আনন্দের প্রতিটি মুহূর্ত বন্দী করেন চারকোণা ফ্রেমে। সেই মুহূর্তগুলোরই একটি ‘আফটার দ্য ডেথ’। আকাশ যখন ছবিটি তার ফেসবুক প্রোফাইলে আপলোড করেন, তখন তা নজর কাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই মুজতবা রাব্বানি রসির। তিনি আকাশকে জানান ছবিটি কোনো প্রতিযোগিতায় দেওয়ার জন্য। তার কথামতো আকাশ সেই ছবিসহ আরও সাতটি ছবি জমা দেন ‘ব্রেক দ্য সার্কেল’-এ। প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয় তার দুইটি ছবি, যার একটির জন্য তিনি অর্জন করে নেন প্রথম স্থান। ছবি তোলার ক্ষেত্রে আকাশ সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তার বাবা লক্ষণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে। কলেজে থাকাকালীন লক্ষণ চন্দ্র দাসের অবসর কাটত ছবি এঁকে। পরবর্তীতে জীবনের প্রবাহমান ব্যস্ততায় হাতে রংতুলি না উঠলেও খুব করে চেয়েছিলেন তার ছেলেও তার মতো শৈল্পিক কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হোক। গতানুগতিক পড়াশোনার বাইরে মেতে উঠুক সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কোনো কাজে। তাই তো ছেলের এই অর্জনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন তিনি-ই। এ ছাড়াও ছবি তোলার ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিনিয়ত যে মানুষদের কাছ থেকে উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, তারা হলেন মুজতবা রাব্বানি রসি ও সাইমুম সাঈদ। অনার্সের পাট চুকিয়ে আকাশ এখন মাস্টার্স করছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন আকাশ। তবে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নগুলোর বিশাল একটি অংশজুড়ে অবস্থান করছে ফটোগ্রাফি। কর্মজীবনে যে ক্ষেত্রেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলুন না কেন, মন খারাপের এই সঙ্গীকে সবসময় আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান তিনি।
