ফ্যাশন ডিজাইনিং

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২০:৪৬

এই মুহূর্তে ক্রিয়েটিভ ডিজাইনিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি গ্ল্যাম ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অন্যতম আকর্ষক পেশাই হল ফ্যাশন ডিজাইনিং। এই পেশা-সংক্রান্ত কিছু জরুরি  তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনে

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

ফ্যাশন ডিজাইনিং মানে কিন্তু শুধুমাত্র গ্ল্যামারাস সেলেব্রিটিদের জন্যই কাজ করা নয়, সেন্স অফ স্টাইল কিন্তু আনা যায় সব ধরনের পোশাকেই। যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার মধ্যেই কিন্তু একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে কাজ করার প্রধান ক্ষেত্রগুলোই হল কাপড়, বিভিন্ন পোশাক-আশাক অর্থাত্ টেক্সটাইলস ডিজাইনিং। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে কাজ করার কিছু বাড়তি সুবিধা আছে, তার কারণ হল বিভিন্ন ধরনের সিল্ক বা রেশম, ট্র্যাডিশনাল হ্যান্ডলুম ফেব্রিক, রাস্টিক টেক্সচারে কাজ করতে পারার সুযোগ। আমাদের দেশের টিন জেনারেশন ফ্যাশন নিয়ে ক্যারিয়ার করার ব্যাপারে দিন-দিন খুব বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। ফ্যাশন ডিজাইনারের কাজই হল চলতি ট্রেন্ডের বিভিন্ন আকর্ষক ভ্যারাইটি তৈরির মাধ্যমে ক্রেতা বা ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করা। শুধুমাত্র লেটেস্ট ট্রেন্ডের কাজই নয়, মার্কেট কন্ডিশন এবং আবহাওয়ার ধরন বুঝেও ড্রেস মেটিরিয়াল নির্বাচন করতে হয়। মাথায় রাখতে হয় ফিটিং, স্টাইল, কালার, টেক্সচার এবং মেটিরিয়ালের কথাও।

যে পোশাকটি তৈরি করতে হবে, সেটি প্রথমে স্কেচ করতে হয়। তারপর এর বিভিন্ন অংশগুলো সঠিক সাইজে একটি কাগজের উপর এঁকে কেটে নিতে হয়। সেগুলো সেলাই করে কোনও মডেল বা ম্যানিকুইনের গায়ে ফিট করে কি না দেখে নেওয়ার পর আসল ফেব্রিকের পোশাকটি তৈরি করা শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে শেখার সময় কাগজ দিয়েই ট্রায়াল হয় বিভিন্ন পোশাকের। তারপর কাপড়ের সাহায্যে ফাইনাল স্ট্রাকচার তৈরির সময় দেখে নিতে হয় ফেব্রিক, উইভ, ড্রেপিং কোয়ালিটি, মেটিরিয়াল কালার এবং ডিজাইন।

ফ্যাশন ডিজাইনিং-এ কাজের রকমফের

ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের পেশায় অনেক ধরনের কাজের আলাদা-আলাদা বিভাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাধারণ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা করেও প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। এই পেশার অন্তর্গত দপ্তরগুলো হল—

ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট :এটি হল প্রধানত ম্যানুফাকচারিং ইউনিট। এই বিভাগে যেসব পদে কাজ করা যায়, সেগুলো হল ডিজাইনার, কাটিং অ্যাসিসট্যান্ট, স্কেচিং অ্যাসিসট্যান্ট, জুনিয়র ডিজাইনার ইত্যাদি। এদের মাধ্যমেই বড় স্কেলে ডিজাইনার গারমেন্টস ম্যানুফাকচার করা হয়।

মার্কেটিং এবং মার্চেন্ডাইজিং :আজকের দিনে ফ্যাশনের ট্রেন্ড প্রতিমুহূর্তেই পাল্টাচ্ছে। তাই মার্কেটিং এবং মার্চেন্ডাইজিং বিভাগেও চলতি ফ্যাশন সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি সেলস ডেটার উপর নজর রেখে মার্কেটিং অবজেক্টিভ তৈরি করার দায়িত্বও থাকে এই বিভাগের কর্মীদের উপর। এরাই বিভিন্ন প্রোডাক্টের দাম, প্রয়োজনীয়তা, চাহিদা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ইনপুট পৌঁছে দেন স্টাইলিং ডিপার্টমেন্টের কাছে।

ম্যানুফাকচারিং :ম্যানুফাকচারিং বিভাগটি চলে প্রোডাকশন ম্যানেজারের অধীনে। তার দায়িত্বে থাকে কাজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রোডাকশনের কোয়ালিটি বজায় রাখা। কাজের প্রত্যেকটা পর্যায়ই প্রোডাকশন ম্যানেজারকে কমবেশি নজরে রাখতে হয়।

ফ্যাশন কো-অর্ডিনেটর :এটিও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এদের কাজ হল ক্রেতা এবং প্রোডাকশন ম্যানেজারের মধ্যে কো-অর্ডিনেট করা। প্রোডাকশন শিডিউল ঠিকমতো মেনে চলা, ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী ফেব্রিক, কালার, ডিজাইন এবং কোয়ালিটির উপর নজর রাখাই এদের প্রধান কাজ।

কাজের প্রয়োজনীয় দক্ষতা

প্রথম থেকেই যে-কোনও আইডিয়া স্কেচ করে দেখানোর দক্ষতা গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজনীয়। খুব দক্ষ শিল্পী হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে কালার, শেড এবং টোন নিয়ে কাজ করা বা ম্যাচিং-মিক্সিং করার সেন্স থাকাটা জরুরি। পাশাপাশি কাগজে-কলমে যা আঁকা বা প্ল্যান করা হল, থ্রি-ডাইমেনশনে তার ভিজুয়ালাইজেশন কেমন হবে, সেই বোধটাও ফ্যাশন ডিজাইনারের থাকতে হয়। এই পেশায় ভাল করতে হলে শুধু ভাল শিল্পী হলেই হবে না। রীতিমতো পড়াশোনা করে চলতি ফ্যাশন ট্রেন্ডের খোঁজখবর রাখার প্রয়োজন হয়। একজন ফ্যাশন ডিজাইনারকে বাণিজ্যিক সাফল্য পেতে হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের ফ্যাশন জার্নাল, ম্যাগাজিন বা টিভি চ্যানেলে নিয়মিত চোখ রাখতে হয়। শুধু তাই নয়, শিল্প এবং ইতিহাসভিত্তিক নানারকম মিউজিয়াম বা প্রদর্শনী থেকেও তাকে নানারকম আর্ট ফর্ম কালেক্ট করার প্রয়োজন হতে পারে।

বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা

ফ্যাশন নিয়ে কাজ করলে যে ধরনের কাজ করার সুবিধে পাওয়া যায়, সেগুলো হল

১. বিভিন্ন এক্সপোর্ট হাউস, যেখানে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল্স বা হ্যান্ডলুম নিয়ে কাজ হয়।

২. রিটেল এবং হোলসেল গার্মেন্টের ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজাইনার।

৩. ফ্যাশন শো অর্গানাইজার বা ফ্যাশন পাবলিশার।

৪. বিভিন্ন ফ্যাশন প্রোগ্রামের নিজস্ব কস্টিউম ডিজাইনার ইত্যাদি ভূমিকায় কাজের সুযোগ পাওয়া যায়।