চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে?

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ২১:৩১

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার আদেশের পালটা ব্যবস্থা হিসেবে চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বেইজিং। তারই ফলশ্রুতিতে চেংডুর কনস্যুলেট ছাড়েন মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা। হিউস্টনের কনস্যুলেট থেকে চীন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ‘চুরি’ করার তত্পরতা চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ আনে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে একটি বিদেশি মিশন বন্ধ করে দেওয়া নজিরবিহীন কিছু নয়। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ সচরাচর ঘটে না এবং একবার ঘটে গেলে তা থেকে পিছিয়ে আসা কঠিন। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা উচিত চেংডুতে যা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তা একটি কনস্যুলেট, দূতাবাস নয়। পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত কোনো কাজকর্ম এখানে হয় না। কিন্তু বাণিজ্য এবং বৈদেশিক কর্মকাণ্ডের আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর একটি ভূমিকা রয়েছে। যেহেতু হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেবার প্রতিশোধ হিসেবে চেংডুর মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অবকাঠামোর মাধ্যমে যোগাযোগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে পালটাপালটি ব্যবস্থা হিসেবে দুই দেশকে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ, কূটনৈতিক ভ্রমণের নতুন নিয়মকানুন, আর বিদেশি সংবাদদাতাদের বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। খবর বিবিসি বাংলার

সব দেশেই বিদেশি মিশনগুলো থেকে কিছুটা গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হয়ে থাকে এটা মোটামুটি ধরেই নেওয়া হয়। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, হিউস্টনে যা হচ্ছিল তা গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, হিউস্টন কনস্যুলেটটি অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের মতে, সব চীনা কূটনৈতিক স্থাপনাতেই এটা চলছে। সে কারণেই এই কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চীনকে একটা শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, এগুলো আর সহ্য করা হবে না।

এ মাসের প্রথম দিকে এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার রে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন যাতে তিনি বলেন, গত এক দশকে মার্কিন স্বার্থের প্রতি চীনা হুমকি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, তাকে এখন গড়ে প্রতি ১০ ঘণ্টায় একটি নতুন কাউন্টার ইনটেলিজেন্স তদন্ত শুরু করতে হচ্ছে যার সঙ্গে চীন সম্পর্কিত। তবে বেইজিং সব সময়ই এসব অভিযোগকে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানি রাসেল বলেন, এটা হয়তো ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। বিষয়টি যদি তেমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন জাগে এর সঙ্গে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কি কোনো সম্পর্ক আছে?