বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যাত্রা শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ‘যাত্রা শিল্পের নবযাত্রা’—শ্লোগান ধারণ করে যাত্রা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং কয়েকবছর ধরে শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক যাত্রাদল নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে ১০৬টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। যাত্রাদল নিবন্ধনের লক্ষ্যে গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর ১০ম যাত্রানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এরইমধ্যে ‘ঈশা খাঁ’ শিরোনামে একটি প্রত্নযাত্রা নির্মাণ এবং মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটককে যাত্রাপালায় রূপান্তর করে মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে ৫টি যাত্রাপালা নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি দেশীয় যাত্রাপালা নির্মিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ৬৪টি দেশীয় যাত্রাপালা নির্বাচন করে জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পালাগুলোর নির্মাণ ও মঞ্চায়ন কার্যক্রম শেষ হতে যাচ্ছে। সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যাত্রা শিল্প হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
শিল্পে ঐক্যতানের সমন্বয়ে দেশজ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি চর্চা লালন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। নাটক, পাপেট, চলচ্চিত্র, যাত্রা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে এরইমধ্যে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। এরমধ্যে অন্যতম যাত্রাপালা। যাত্রাপালা আমাদের দেশের সুদূর অতীতে গ্রামে সুরুচিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিনোদন হিসেবে দর্শককে বিপুল আনন্দ প্রদান করতো এবং বিনোদনের অন্যতম শিল্প মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। যাত্রাপালার পুরোনো সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ও যাত্রা শিল্পকে দর্শকনন্দিত করার জন্য শিল্পকলা একাডেমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
