চট্টগ্রামে ওয়াসার পানি প্রাপ্তিতে বাকলিয়াবাসীর দুর্ভোগ কমেছে

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৩

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

বিশুদ্ধ পানির সংকটে একসময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নগরীর বৃহত্তর বাকলিয়াবাসীকে। ওয়াসার সংযোগ থাকলেও সপ্তাহে ২/৩ দিনের বেশি পানি পেতেন না তারা। রাত জেগে পাহারায় থাকতে হতো কখন লাইনে পানি আসে তা সংরক্ষণের জন্য। এখন বিশুদ্ধ পানির সংকট কেটে গেছে বৃহত্তর বাকলিয়াবাসীর। চট্টগ্রাম ওয়াসা দুইটি বৃহত্ পানি শোধনাগার চালুর পর শুধু বৃহত্তর বাকলিয়ায় নয়, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও পানি সংকট অনেকাংশে নিরসন হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আরো একটি বৃহত্ পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ফলে তখন চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির আর সংকট থাকবে না বলে ওয়াসার কর্মকর্তরা দাবি করেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি প্রাপ্তিতে অতি সংকটপূর্ণ যে কয়েকটি এলাকা রয়েছে তার মধ্যে বৃহত্তর বাকলিয়া অন্যতম। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এই এলাকায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সংকট নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছে; কিন্তু তা এলাকাবাসীর দৈনিক চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নির্মিত মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহ চালু করার পর সংকটাপন্ন এসব এলাকায় পানি সংকট নিরসন হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টা পানি পাচ্ছে এলাকাবাসী। মদুনাঘাট শোধনাগার থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

কে বি আমান আলী রোড এলাকার বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর পানি সংকট নিরসন হলো। আর রাত জেগে পানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।’ সৈয়দ শাহ রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে চাহিদা অনুপাতে ওয়াসার পানি পাওয়া যাচ্ছে। সব সময় ওয়াসার পাইপ লাইনে পানি পাওয়া যাচ্ছে।’

ওয়াসা সূত্র জানায়, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহকৃত এলাকার মধ্যে রয়েছে- চান্দগাঁও, খাজা রোড, বাদুরতলা, চকবাজার, চন্দনপুরা, দেওয়ানবাজার, রাহাত্তারপুল, দক্ষিণ বাকলিয়া, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গি বাজার। ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখন রেশনিং করে পানি সরবরাহ তুলে নেওয়া হয়েছে। ২/৩টি উঁচু এলাকাছাড়া নগরবাসী ওয়াসার পানি পাচ্ছে।’

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাঙ্গুনিয়ায় নির্মিত কর্ণফুলি পানি শোধনাগার (শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার), মোহরা পানি শোধনাগার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার ও চালু থাকা কয়েকটি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দিচ্ছে ওয়াসা। যদিও নগরীতে পানির দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫৫ কোটি লিটার। এদিকে রাঙ্গুনিয়া এলাকায় কর্ণফুলি পানি শোধনাগার এলাকায় দ্বিতীয় আরো একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এটি থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেওয়া যাবে। প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাজী ইয়াকুব সিরাজুদ্দৌলা ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। মেয়াদ ২০২২ সাল পর্যন্ত থাকলেও তার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়ে নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।’