চলনবিলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

চলনবিলে বর্তমানে মৌচাষিরা বাণিজ্যিকভাবে মধু উত্পাদন ও সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে মৌমাছির বাক্সসহ অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছর এ এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, চলনবিলের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় গত ৬-৭ বছর ধরে রবি মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে কোটি কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বছরও বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য চলনবিলের সরিষার জমিতে হাজার হাজার মৌবাক্স বসিয়েছেন।

মাগুরা থেকে আসা মৌচাষি আব্দুস সালাম জানান, তার মোট ৯৫টি মৌবাক্স রয়েছে, যা থেকে তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় সাড়ে চার মণ মধু সংগ্রহ করতে পারেন। চলনবিলের খাঁটি মধু সংগ্রহের জন্য প্রাণ, স্কয়ার, এপিসহ বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই আসতে শুরু করেছেন। স্কয়ার কোম্পানির প্রতিনিধি মাহফুজ জামাল জানান, চলনবিলের মধুর গুণগত মান অত্যন্ত ভালো। এসব মধু সংগ্রহ করে প্রতি কেজি ২৫০-৩’শ টাকা দরে বাজারজাত করা যায় বলে তিনি জানান।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন জানান, যেসব সরিষার জমি থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে, সেসব জমির সরিষার ফুলে সঠিকভাবে পরাগায়ন ঘটে। ফলে সে জমির সরিষার ফলন ২৫-৩০ গুণ বেড়ে যায়।

চলনবিল মৌচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে চলনবিলের সরিষা ফুল থেকে বাণিজ্যিকভাবে এবং বিভিন্ন গাছে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মৌচাক থেকে প্রায় ১ হাজার টন মধু সংগৃহিত হবে যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।