করোনার কারণে দীর্ঘ ১৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে রাঙ্গামাটির আকর্ষণীয় পর্যটন কমপ্লেক্স। গত ১৮ মার্চ হতে বন্ধ থাকার পর সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে খুলে দেয়া হয়েছে আকর্ষণীয় ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, জেলা প্রশাসকের সাথে সাক্ষাৎ করে তার পরামর্শের ভিত্তিতে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। কারণ ইতিমধ্যেই কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পর্যটন কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তাই আপাতত সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কমপ্লেক্সটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।
সৃজন বিকাশ বড়ুয়া আরো জানান, যখন পর্যটকে মুখর থাকে ঝুলন্ত সেতুটিতে তখন করোনা মহামারির কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ১৮ মার্চ বন্ধ করা হয়েছিলো পর্যটন কেন্দ্রটি। গত চার মাসে প্রায় এক কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের। এতে বিশাল অংকের ক্ষতির মুখে পড়েছে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশন।
আরো পড়ুনঃ করোনায় মারা গেলেন অভিনেত্রী বিজরীর বাবা
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যটন কমপ্লেক্সটি খুলে দেয়ার পর ঠিক কি পরিমাণ পর্যটক আসবেন অথবা আদৌ আসবেন কিনা সেটা বোঝা যাবে আগামী কয়েকদিনের পরিস্থিতির ওপর। তবে সামাজিক দুরত্ব ও মাস্ক ছাড়া কাউকে পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হবেনা বলেও জানান রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ জানান, রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সটি খুলে দেয়ার ব্যাপারে পর্যটনের ব্যবস্থাপক আমার কাছে এসেছিলেন এবং তার সাথে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, আপনারা যদি মনে করেন যে, সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালাবেন, তবে চালাতে পারেন। সেই মোতাবেক তারা পর্যটন কমপ্লেক্সটি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি, কেউ যেনো মাস্ক ছাড়া সেখানে না যায় এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি শহরের একেবারেই শেষ প্রান্তে অবস্থিত দেশের প্রধান সরকারি পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্রটি। ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণের জন্য অসংখ্য বোট ছাড়াও এখানে রয়েছে একাধিক মোটেল ও কটেজ। রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা টুরিস্টদের প্রধান গন্তব্যই তাই এই কেন্দ্রটি।
ইত্তেফাক/এমএএম

