সারিয়াকান্দিতে যমুনার তীর রক্ষা কাজ সম্পন্ন, ভাঙন আতঙ্কমুক্ত মানুষ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৪

বগুড়া অফিস

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারিয়াকান্দিতে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে যমুনা পাড়ের মানুষ ভাঙন আতঙ্কমুক্ত হয়েছে। প্রতিবছর ভাঙনে সারিয়াকান্দি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, কয়েক হাজার বাড়ি-ঘর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক-সেতু, অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যমুনার গর্ভে বিলীন হয়। নদী ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন রোধকল্পে যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়ার এক জনসভা থেকে যমুনার ভাঙন রোধকল্পে প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কথানুযায়ী গৃহীত ৩৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় রৌহাদহ থেকে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার যমুনার তীর রক্ষা কাজ করা হয়। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল পাউবো নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডকে (নারায়ণগঞ্জ) কার্যাদেশ দেয়। সময়সীমা ধার্য করা হয় ২ বছর। নৌবাহিনীর ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লি.।  প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে মোট ৩১ লাখ সিসি ব্লক এবং ১৫ লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন হওয়ায় পূর্ব বগুড়ার বিশাল জনপদ যমুনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পায়। এ ব্যাপারে নিজামউদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বড়ইকান্দি মৌজায় এই স্কুলটি। ভাঙন আশঙ্কায় আমরা স্কুলটি অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু তীর রক্ষা কাজ শেষ হওয়ায় ভাঙন আতঙ্কমুক্ত হয়েছি।  কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আলী রনি বলেন, নদীর কাজ না হলে এতদিনে ইউপি ভবন এবং কুতুবপুর বাজার যমুনায় বিলীন হতো। পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, প্রকল্পের মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঘাট নির্মাণ এবং সৌন্দর্য বর্ধনে আরও কাজ করতে হচ্ছে। সময়মতো প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষা পেয়েছে।