ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ৪ লাখের বেশি বাসিন্দাকে প্রদান করা হয়েছে আবাসিক সনদ। ভারতে এই আবাসিক সনদের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কোন রাজ্যের বাসিন্দা সেই পরিচয় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত জম্মু এলাকায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ জন নাগরিককে জম্মু এলাকায় এবং কাশ্মীরে ৭৯ হাজার ৩০০ জন নাগরিককে এই সনদ প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই এলাকার সকল নাগরিক এই সনদ পাবেন বলে জানায় দেশটির সরকার।
আবাসিক সনদ প্রাপ্ত ৪ লাখ নাগরিকের একজন জম্মুর ভোলা রাম (৫৭)। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে 'ন্যায়বিচার ও মর্যাদা প্রদান'-এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো জানান, দলিতদের অধিকার নিয়ে কাজ করে যাওয়া মায়াবতীও কখনো তাদের অধিকার ও দুর্দশা নিয়ে কথা বলেনি।
৩৭০ আর্টিকেলের ধারা বাতিল হওয়ার পরে আইনটি নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকায় উদ্বেগ ও ভয় দেখা যায়। কেননা তাদের বিশ্বাস ছিলো এই আইন রুখে দিয়ে কাশ্মীর অঞ্চলে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এই অঞ্চলে নিজেদের জমির ওপর অধিকার হারাবে জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু বিষয়টি যেন তার উল্টোটাই ঘটল।
এই সনদ প্রদানের মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি শরণার্থী, যারা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলো, তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছে। এখন থেকে বৈধভাবে কাজ করতে পারবে তারা। শুধু কাশ্মীরে নয়, ভারতের যে কোন অঞ্চলে কাজ করার অধিকার লাভ করল তারা।
এতদিন যাবত ভারতের একটি ভূ-খণ্ডের অংশ হলেও এই অঞ্চলের অধিকাংশদের কাছেই ছিলোনা আবাসিক সনদ। শ্রীনগরের এক বাসিন্দা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'এই অঞ্চলের অধিকাংশরাই আবাসিক সনদের জন্য আবেদন করেছেন। বিরোধিতাও রয়েছে। কিন্তু বিরোধিতার পরও সবাই বুঝতে পেরেছে, ভবিষ্যৎ পথ চলার জন্য এই আবাসিক সনদ খুবই গুরুত্ব বহন করবে।'
এই অঞ্চলের গুজ্জার সম্প্রদায়ের নাজির আহমদ বাদানা বলেন, 'গুজব রয়েছে ৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে এই অঞ্চলে বহিরাগতদের প্রবেশ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে এটিকে সঠিক বলে মনে হয়না। আর আমার কাছে এই বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব রাখে না। কেননা স্থানীয় উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাকি বিষয়গুলো রাজনীতির অংশ।'
ইত্তেফাক/আরএ
