চিরনিদ্রায় শায়িত সৈয়দ আশরাফ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৪

সকলকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, দুঃসময়ের কাণ্ডারি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ এবং ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে পৃথক তিনটি নামাজে জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসার মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে তাকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সকল মহলে অসম্ভব জনপ্রিয় সৈয়দ আশরাফকে একটু দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে তার প্রতিটি জানাজায় ছিল লাখো জনতার ঢল। এ যেন অবিশ্বাস্য দৃশ্য! নিজের চোখে না দেখলে সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন। একজন রাজনীতিক কতোটা জনপ্রিয় হতে পারেন, শেষ যাত্রায় লাখো মানুষের ঢলই তার প্রমাণ। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা শেষে জাতীয় ও দলীয় পতাকায় মোড়া সৈয়দ আশরাফের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ। সততার মূর্ত প্রতীক এই ক্ষণজন্মা রাজনীতিকের চিরবিদায়ে সত্যিই দেশের মানুষের চোখে ছিল জল। রাজনীতির বাতিঘর সৈয়দ আশরাফের মৃত্যু যেন কেউই মেনে নিতে পারেননি।   

এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন শ্রদ্ধাভাজন বিনম্র রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (৬৭); সেই সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে গতকাল সকালে তিনি এলেন কফিনবন্দি হয়ে। সর্বস্তরের লাখো মানুষ আশরাফের জানাজায় অংশ নিয়ে স্মরণ করেন তাদের ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারিকে’। সকাল সাড়ে ১০টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ উপস্থিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা শুরু হয়। জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা আবু রায়হান। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ ও এমপিরা।

নামাজে জানাজা শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈয়দ আশরাফকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে  সৈয়দ আশরাফের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি মরহুমের পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কালো চাদর পরে সংসদ ভবন চত্বরে আসেন। ১০টা ৪২ মিনিটে সৈয়দ আশরাফের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের মাধ্যমে তাকে শেষ বিদায় জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কফিনের পাশে কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে আশরাফের কফিনে আরেকবার শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া। সর্বস্তরের জনতার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে মরহুম আশরাফের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোনাজাতে শরিক হন। পরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যায় অস্থায়ী বেদি। কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সৈয়দ আশরাফের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানাজার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘর থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। প্রথমে সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। জানাজা শুরুর আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তার ভাই সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই দীর্ঘদিন আপনাদের সঙ্গে ছিলেন। আপনাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তার কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে আপনারা ক্ষমা করবেন। এছাড়া তার কোনো দেনা-পাওনা থাকলে আমাদের জানাবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

জেপি’র শ্রদ্ধা

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ থেকে সৈয়দ আশরাফের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে সৈয়দ আশরাফের প্রথম নামাজে জানাজায় অংশ নেন জেপি নেতৃবৃন্দ। জানাজা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।  

গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তার মরদেহবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট (বিজি ০৮৯) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর সৈয়দ আশরাফের মরদেহ বেইলি রোডে তার সরকারি বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মরদেহ রাখা হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমাগারে। সকালে সেখান থেকে মরদেহ সংসদ চত্বরে নেওয়া হয়। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত হওয়ার পর হেলিকপ্টারযোগে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের তৃতীয় নামাজে জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ কিশোরগঞ্জ থেকে পুনরায় ঢাকায় ফিরিয়ে এনে দাফন সম্পন্ন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বনানী কবরস্থানে এসে পৌঁছায়। সৈয়দ আশরাফকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বনানী কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ। ছিলেন সৈয়দ আশরাফের পরিবারের সদস্যরা। দাফন শেষে সৈয়দ আশরাফের চাচাতো ভাই এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু দেশবাসীর কাছে তার ভাইয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সৈয়দ আশরাফের দোয়া মাহফিল আগামীকাল

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আগামীকাল মঙ্গলবার দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিকেল ৫টায় রাজধানীর ২১ বেইলি রোডে আশরাফের সরকারি বাসভবনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্টদের যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাজায় অশ্রুসিক্ত ময়মনসিংহবাসী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে রবিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ইমামতি করেন আঞ্জুমান ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন। জানাজার আগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরূল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর সভাপতি এহতেশামুল আলম, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, নেত্রকোনা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান, জামালপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকীবিল্লাহ, শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, সিপিবি সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, জাসদের অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু, মহানগর জাতীয় পার্টি সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে। গতকাল রবিবার বেলা ১টা ২০ মিনিটে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান। এর আগে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে সৈয়দ আশরাফের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। ঢাকা থেকে মরদেহের সঙ্গে আসেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের তিন সহোদর সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম, ড.  সৈয়দ শরীফুল ইসলাম, দুই বোন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি ও সৈয়দা রাফিয়া নূর লোপা, তার কন্যা সৈয়দা রীমা ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হক চৌধুরী নওফেল।