একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পেতে সারাদেশের মতো বৃহত্তর চট্টগ্রামেও ডজনেরও বেশি নারী নেত্রী তত্পরতা চালাচ্ছেন। যাদের অনেকে সংসদ নির্বাচন ও তার পূর্ববর্তী সময়েও সরব ছিলেন। ৫০টি আসনের মধ্যে গত সংসদে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে তিনজনকে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হয়েছিলো।
গত সংসদে চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত করা হয়েছিলো প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান, আওয়ামী লীগ নেত্রী ফিরোজা বেগম চিনু ও সাবিহা নাহারকে। তবে এবার কয়জনকে নেওয়া হয় সে বিষয়ে এখনো কোনো আভাস মেলেনি।
সাধারণত- জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গেজেট প্রকাশ হলে এর ত্রিশ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এখনো পর্যন্ত যারা আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে গত সংসদের সংরক্ষিত আসন-৩১ এর দায়িত্ব পালন করা ওয়াসিকা আয়েশা খান আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর গুডবুকে আছেন বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দায়িত্বে থাকা এই নেত্রী সরকারি বরাদ্দের সুষম বন্টনসহ নানা কারণে দলীয় প্রধানের সুদৃষ্টিতে আছেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও তুলনামূলক তরুণ নবাগত প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী। ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এই নেত্রী সদ্য শেষ হওয়া সংসদ নির্বাচনের অনেক দিন আগে থেকে নির্বাচন পূর্ব সময় পর্যন্ত জঙ্গিবাদ ও ২০১৪ সালের আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল প্রচারণা চালিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাইতে উদ্বুদ্ধ করে আলোচনায় এসেছেন এই আইনজীবী নেত্রী।
এই দুই প্রার্থী ছাড়াও গতবারের দুই এমপি ফিরোজা বেগম চিনু, সাবিহা নাহার, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার বেগম, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাসিনা মান্নান, বর্তমান সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব, সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরী, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেহানা কবির রানু, রেখা আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খদিজাতুল আনোয়ার সনি আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাসিনা মান্নান ও বর্তমান সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
