‘তিনি ছিলেন সবার কাছে সমাদৃত’

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৭

কীর্তিমানদের জীবনে মৃত্যুই শেষ কথা নয়। নশ্বর জীবনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বাইরে অবিনশ্বর কর্মে তারা বেঁচে থাকেন কোটি মানুষের মনে। তেমনি বেঁচে থাকবেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ। তার মৃত্যুতে শোকাহত তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। তারা বলছেন, নির্মোহ, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী সৈয়দ আশরাফ দলের দুর্দিনে ঢাল হয়ে আগলে রেখেছিলেন দলকে। পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যিনি সবার কাছে, সব রাজনৈতিক দলের কাছে সমাদৃত।

গতকাল রবিবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফের নামাজে জানাজার আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমি অন্য কাউকে ছোট করছি না, সংসদ অধিবেশনে সৈয়দ আশরাফ যে কোনো বিষয়ে যে তথ্য দিতেন তা জেনে বলতেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সৈয়দ আশরাফ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে জানতেন, সবার কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। স্বাধীনতার পক্ষের দল আওয়ামী লীগের দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে ও পরে দল যখনই দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পড়েছে তখনই প্রাচীরের মতো সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সৈয়দ আশরাফ নিষ্ঠাবান, সত্ ও নির্লোভ একজন মানুষ ছিলেন। তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ। আজীবন দলের দুঃসময়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় আমরা সবাই যখন কারাবন্দি তখন জিল্লুর রহমানকে নিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন সৈয়দ আশরাফ। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পার্টির বাইরেও বিভিন্ন দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করছেন। তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিয়োগে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা পূরণ করা দুরূহ। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন না। আমাদের ছেড়ে তার চলে যাওয়া আওয়ামী লীগের জন্য এক বড় শূন্যতা। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই তখন কারাগারে। তখন তিনি যেভাবে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছিলেন, তা অবিস্মরণীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তিনি শুধু নেতৃত্ব দেননি, আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতাকর্মীর কাছে তিনি ছিলেন ভরসার জায়গা। তরুণ রাজনীতিবিদদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নিজেকে জাহির করার প্রবণতা সৈয়দ আশরাফের কখনোই ছিল না। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সৈয়দ আশরাফ কখনও পদের পেছন ঘোরেননি, অর্থ বা ক্ষমতার পেছনে ছোটেননি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, মানুষের দেয়া দায়িত্বকে তিনি নিজের কাজ বলে মনে করেছেন। মানুষের জন্য তার ছিল ভালোবাসা, দরদ ও নিষ্ঠা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, নবীন প্রজন্মের কাছে আবেদন, সৈয়দ আশরাফের মতো নির্লোভভাবে দেশকে কিছু দেয়ার কথা যেন অন্যরাও চিন্তা করেন।