খুদে তারকাদের মনে শ্যুটিং সেট

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ২০:০৬

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে শ্যুটিং। বড়োদের মতো খুদে তারকারাও এখন ঘরে বসেই সময় পার করছে। দীর্ঘদিন শ্যুটিং সেটে যেতে না পেরে কেউ ছটফট করছে দুষ্টুমি করার সুযোগ হারিয়ে, কারো মন খারাপ শটের ফাঁকে খেলাধুলার সুযোগ হারিয়ে। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে এমন কয়েকজন খুদে তারকার গল্প জানাচ্ছেন—মুনতাসির সিয়াম

মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মূল শাখার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে মায়মুনা ইসলাম মেধা। তবে মেধাকে সবাই জানে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই। এ বয়সেই ৭০টিরও বেশি অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করেছে সে। যেগুলো প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন, এটিএন বাংলা, এনটিভিসহ দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন চ্যানেলে। ‘দুরন্ত সময় সিজন ২’, ‘কারাতে দো’ নামের জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোতেও তার অংশগ্রহণ দেখা যায়।

শ্যুটিং দিনের কোন ঘটনাগুলো বার বার মনে পড়ছে—জানতে চাইলে মেধা জানায়, ‘লক ডাউনের আগেই শিশুতোষ চলচ্চিত্র “অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন” সিনেমার সত্তর ভাগ শ্যুট করে এসেছি। সেটে আমাদের ১৪ জন শিশুশিল্পীর খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল। অবসরে সবাই মিলে সেখানে নাচ করতাম, গান করতাম, কেউ বা আবৃত্তি করতাম। দেখা যেত, আমাদের বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে খেলতে চলে এসেছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ভাইয়া, শহীদুল আলম সাচ্চু চাচ্চুর মতো বড়োরাও। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লেই খুব কষ্ট হয়।’  

এক বছর বয়স থেকেই মডেলিং জগতে পা রেখেছিল আয়াজ মাহমুদ। সেন্ট জ্যাকব স্কুলের কেজি শ্রেণির ছাত্র সে। বসুন্ধরা সিমেন্ট, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, ওয়ান ব্যাংক, মেরিল বেবি লোশন, প্রাণ গ্রুপের মতো বড়ো বড়ো ব্যানারগুলো মিলিয়ে কাজ করেছে প্রায় ৩২টির মতো বিজ্ঞাপনে।

আয়াজ একটু বেশিই ছোট হওয়ায় জানতে চেয়েছিলাম ওর মায়ের কাছে। তিনি জানালেন, ‘ঘুমের অভিনয়ের শটে দেখা যায় সত্যি সত্যিই ঘুমিয়ে পড়েছে আয়াজ। এতটাই ছোট সে। এরপরও শ্যুটিং মানেই আয়াজের কাছে দারুণ মজার ব্যাপার। শ্যুটিংয়ের ফাঁকে শুধু খেলা আর খেলা। খেলতে খেলতে পড়ে গিয়ে চোখের কোনায় আঘাত লেগে ভীষণ রক্তও ঝরেছিল একবার। তবুও শ্যুটিং বাদ দিয়ে ওকে বাসায় নিয়ে আসা যায়নি। ঘরে বসে তো আর সেই দুরন্তপনাগুলো করতে পারে না। তার জন্যই ছটফট করছে সে।’ 

ওয়াই ডব্লিউ সিএ উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে তানসী মাসুদ। উপস্থাপনা শুরু করেছে ২০১৯ সালে ‘আহা কী আনন্দ’ ও ‘ছন্দ আনন্দ’ নামে প্রচারিত দুটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। টেলিভিশনের পর্দায় উত্সবের দিনগুলোতে বিশেষভাবে আয়োজিত ‘ঈদের খুশি’, ‘পায়েল বাজে’, ‘টুনটুনিদের বৈশাখ’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোয় উপস্থাপনা করে তানসী এখন সকলের মাঝেই পরিচিত। মোট ৩৫টির মতো অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছে সে।

‘লক ডাউনে বড়োদের মতো আমরা ছোটরাও শ্যুটের জন্য সেটে যেতে পারছি না। খুব মজা করে কাজ করতাম সবসময়। একবার মাথার চুল ফেলে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম অন্তত দুই মাস হয়তো আমাকে উপস্থাপনার জন্য কোনো চ্যানেল থেকে ডাকা হবে না। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই ডাক পড়ল আমার! সেবার উইগ ব্যবহার করে উপস্থাপনা করেছিলাম। ছোট বলে হয়তো সেটের সবাই একটু বেশিই আদর করে আমাকে। সেই আদরগুলোই মিস করছি’—বলল তানসী।

বাকিদের মতো সৌবন্তিক সমৃদ্ধও শ্যুটিংয়ের সময় ঘটা মজার ঘটনাগুলো মনে করে আফসোস করছে বলে জানাল। বলল, ‘সবাই একসাথে বসে ডায়লগ মুখস্থ করতাম আমরা। আমি তো দৃশ্য ও পৃষ্ঠানম্বরসহ পুরো স্ক্রিপ্ট খুব তাড়াতাড়ি মুখস্থ করে ফেলতাম। সবাই বেশ প্রশংসা করত আমার। আবার দুষ্টুমি করে সুড়সুড়ি দিয়েও বেড়াতাম সবাইকে। ইশ, কী যে মজা হতো!’

খুদে সংগীতশিল্পী হিসেবে ভালোই সুনাম রয়েছে সমৃদ্ধর। পড়ালেখা করছে সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে। শিশু একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক বাবার কাছেই হাতেখড়ি তার। দুরন্ত টিভির ‘হামদ ও নাত-এ রাসুল’, ‘আলোয় ভুবনভরা’-সহ মোট তিনটি গানের ও একটি গল্পের অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধর অংশগ্রহণ সবার নজর কেড়েছে। গানের পাশাপাশি অভিনয়েও জাদু ছড়িয়েছে সে। দুরন্ত টিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘বাবা থাকে বাসায় সিজন ২’ ছাড়াও চারটি ইরানি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিতে কাজ করেছে সে। যেগুলো ধীরে ধীরে প্রচারিত হয়ে আসছে এসএ টিভির পর্দায়। লক ডাউনের আগে দীপ্ত টিভির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ২০০ পর্বের একটি নতুন ধারাবাহিক নাটকেও।