খলিফা হারুন অর রশিদ একদিন বিশাল এক ভোজের আয়োজন করলেন। রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে জমকালো দরবার কক্ষে ভোজ অনুষ্ঠিত হলো। ঐ কামরার দেয়াল আর ছাদে সোনা আর বহুমূল্যবান রত্নরাজি দিয়ে সাজানো ছিল। আর টেবিলের ওপরও সুন্দর ফুল, লতাপাতার বাহার ছিল।
পারস্য আর আরবের সবচেয়ে অভিজাত ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বহু জ্ঞানীগুণী এবং সংগীতজ্ঞরাও এই ভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন।
ভোজ শুরু হতেই কবি আবুল আতাইয়ার উদ্দেশে খলিফা বললেন, ‘হে কবিতার রাজপুত্র, আপনার প্রতিভার পরিচয় দিন। কবিতার মাধ্যমে, এই আনন্দময় আর জমকালো ভোজের বর্ণনা দিন।’
কবি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘দীর্ঘজীবী হোন হে খলিফা এবং এই চমত্কার প্রাসাদে আপনার জীবনকে উপভোগ করুন।’
খলিফা বললেন, ‘শুরুটা বেশ সুন্দর মনে হচ্ছে। বাকিটাও তাহলে আমাদের শোনান।’
কবি বলে চললেন, ‘রোজ সকালে আপনি নতুন নতুন আনন্দ উপভোগ করুন। আর সন্ধ্যায় আপনার সকল ইচ্ছা পূরণ হোক।’
খলিফা বললেন, ‘খুব ভালো, খুব ভালো! বলে চলুন।’
কবি মাথা নুইয়ে অভিবাদন করে বললেন, ‘তবে মৃত্যু যখন দুয়ারে এসে দাঁড়াবে, তখন হায় হায় হে মহান খলিফা! তখন আপনি বুঝবেন যে, সকল আনন্দ-উল্লাস কেবল ছায়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’
খলিফার চোখে জল দেখা দিলো। আবেগে তার কণ্ঠ রুদ্ধ হলো। তিনি মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন।
কবির পাশেই বসা একজন সভাসদ চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘থামুন! খলিফা আপনাকে সুন্দর সুন্দর ভাবনা দিয়ে তাকে আনন্দ দিতে বলেছেন, আর আপনি কি না তার মনে বিষণ্নতা এনে দিলেন।’
খলিফা হারুন অর রশিদ বললেন, ‘কবিকে ছেড়ে দিন। তিনি আমার চোখে অন্ধত্ব দেখেছেন আর তাই আমার চোখ খুলে দিতে চেষ্টা করছেন।’
