একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইসির প্রতি জনগণের আস্থা অনেক বেড়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কোচেয়ারম্যান এইচটি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠক শেষে এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, এবারের নির্বাচনের মতো সুন্দর শৃঙ্খল ও সমন্বয় আগে কখনো নির্বাচনে হয়নি। নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালন করেছেন। সেজন্য আওয়ামী লীগ ও জাতির পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা।
এইচটি ইমাম বলেন, কমিশনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরো সক্রিয় ও সুন্দর করার জন্য পদোন্নতি, আরও সুন্দরভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা, কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি, প্রাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ইসি বৈঠকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির অনিয়মের অভিযোগ ও পুনর্নিবাচনের দাবির বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, এটা নির্বাচন কমিশন, সংবিধানের বিষয়। নতুন করে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আর তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবি পুরনো কথা, এটি আলোচনা করে লাভ নেই। অনেক কিছু তারা বলেছে ভুয়া কথা। যেখানে অনিয়ম হয়েছে এবং তদন্তযোগ্য নির্বাচন কমিশন নিশ্চয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।
এইচ টি ইমাম বলেন, ২০০১ সালে ৫০০ জন, ২০০৭ সালে ১৭০ জন, ২০১৪ সালে ৩০৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এবারের নির্বাচনের আগে কিছুকিছু ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বাহিনী কিংবা অন্যান্য কোনো বাহিনীরই কেউ আহত হননি। কারো ওপর কোনো আঘাত আসেনি। সবকিছু মিলিয়ে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে ভালো হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এইচটি ইমাম বলেন, বিদেশ থেকে যে সমস্ত ডেলিগেশন এসেছিল সবাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলেছেন। এবারের মতো দেশি বিদেশি বিভিন্ন দল যেভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, এতো সুষ্ঠু এতো সুন্দর নির্বাচন হয়নি এবং পৃথিবীব্যাপী যেভাবে সঙ্গে সঙ্গে স্বীকৃতি পাওয়া গেছে, নির্বাচন কমিশনের প্রতি যে সবাই আস্থা প্রকাশ করেছে তাতে তারা গর্বিত।
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চ্যালেঞ্জের ব্যাখ্যায় এইচটি ইমাম বলেন, চ্যালেঞ্জ যেটা সবচে বড় একই দিনে তিনশ আসনে নির্বাচন, সাড়ে দশ কোটি ভোটার, তাদের একত্রে নিয়ে আসা এবং সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারা, তার ব্যবস্থা করা, এগুলো অসাধারণ একটি কাজ ছিল। প্রত্যেকটা জায়গায় ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচন উপকরণ যথাসময়ে পৌঁছানো এবং সময়মতো যারা একাজ করতে পারে এ সমন্বয়টা সম্ভব হয়েছে সরকারের নানাভাবে সহায়তার কারণে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও কবিতা খানম ছিলেন না। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মশিউর রহমান, হাছান মাহমুদ, আক্তারুজ্জামান, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী প্রমুখ।
