বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র গণবিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ছাত্র সংসদের কর্মকর্তারা বছর জুড়ে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষার্থীদের নানা বিষয় নিয়ে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের
কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এমন সময়ে কেমন কাটছে তাদের দিনলিপি? এ নিয়ে ছাত্র সংসদের দায়িত্বরত চার জন প্রতিনিধির দিনলিপি জানাচ্ছেন— মো. রাকিবুল হাসান
জুয়েল রানা, গবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি)। তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে বেশি মনে পড়ে প্রাণের প্রিয় ক্যাম্পাস ‘গণবিশ্ববিদ্যালয়’। লকডাউনে ঘরবন্দি হওয়ায় ভীষণ মন খারাপ লাগত। চারদিকে মৃত্যুর সংবাদে প্রচণ্ড আশঙ্কা ও অসহায় মনে হতো। সারাদিন কাটত ফেসবুক, ইউটিউব ও বই পড়ে। দিনের বেলায় মন ছটফট করত বাইরে যাবার জন্য, ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য। জুয়েল আরো বলেন, করোনা মোকাবিলায় ভলান্টিয়ার হিসেবে যোগ দেই। গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল হাসপাতালে অসহায়দের ত্রাণ বিতরণ শুরু করি। লকডাউন শিথিলের পরে ক্যাম্পাস এলাকায় থাকা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। এই সময়ে আমার জীবনের চমকপ্রদ ও নির্মম পর্যায়গুলো দেখেছি। বিভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে এ করোনায়।
নজরুল ইসলাম রলিফ, গবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। তিনি বলেন, মানবতা কি জিনিস এ করোনায় শিখতে পেরেছি। এ দুর্যোগে অনেক মন্দ মানুষকে যেমন চিনতে পেরেছি, তেমনি অনেক ভালো মানুষকেও দেখেছি। মানুষের উপকারের মধ্যে কতটা আনন্দ লুকিয়ে থাকে তা এ করোনায় বুঝেছি। সামনের দিনগুলোতে সবাইকে নিয়ে এমন কিছু করব যাতে দেশ ও দশের কাজে লাগবে। শিক্ষার্থীদের থেকে দূরে থাকা অনেক কষ্টের। আমরা কাজের মধ্যে থাকলে ভালো থাকি। এ অবসর সকলের মন-মানসিকতাকে বদলে দিচ্ছে। অসহায় মানুষের যে কতো কষ্ট লুকিয়ে আছে তা এই করোনা ভাইরাস বুঝিয়েছে আমাদের। তবে ভালো লেগেছে এসব অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাড়াতে পেরেছি।
খাদিজা আক্তার সেতু, গবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কোষাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ তবে ছাত্র সংসদের কাজ থেমে নেই। ক্যাম্পাস কাছে হওয়ায় ক্যাম্পাসে যেতে হয়। শিক্ষার্থীদের সময় দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হয়। একাডেমিক পড়াশোনার চাপ কম থাকায় পরিবারকে সময় দিতে পারছি। বিভিন্ন পদের রান্না শিখছি। এ অবসরে সোশ্যাল মিডিয়া ও বই পড়েই সময় কাটছে। খ্যাতনামা ব্যক্তিদের জীবনীগ্রন্থ পড়তে ভালো লাগে। প্রত্যাশা করি, বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির পূর্বে এ দুর্যোগ কেটে যাক। আবার প্রাণের গবিয়ানরা ফিরে আসুক ক্যাম্পাসে। সংসদ ও ক্যাম্পাসের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই। সকল শিক্ষার্থীদের দুঃখকষ্টে পাশে থাকতে চাই।
মাহতাবুর রহমান সবুজ, গবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধের প্রথম আড়াই মাস ঘরবন্দি ছিলাম। তবে এখন প্রয়োজনের তাগিদে বের হতে হয়। দিনের বেশির ভাগ সময় অনলাইনে কাটছে। সবুজ আরো বলেন, অনলাইন প্রযুক্তিতে আমরা ক্লাস করেছি, পরীক্ষা দিয়েছি। তবুও এ দীর্ঘ বন্ধে একঘেয়েমি চলে আসছে। ছুটির নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে এমন হতো না। ক্যাম্পাসের রঙিন দিনগুলো ছেড়ে এখন মনমরা ভাবে দিন কাটছে। মায়াবী ক্যাম্পাস, বন্ধু-বান্ধব, অনুজ-অগ্রজদের কথা মনে পড়ে। ছাত্র সংসদের আলোচনা সভা ও আড্ডাগুলো অনুভব করি। ক্যাম্পাস কোলাহলে ভরে উঠুক আবার। পরিচিত মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাব। প্রাণের ক্যাম্পাসে প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আবার দেখা হবে। সবাই যেন সে পর্যন্ত সুস্থ থাকে।
