রাবেয়া বেবী
ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ের প্রতি অন্য রকম একটা টান ছিল রেশমা নাহার রত্নার। বড় হয়ে পর্বতারোহণসহ বিভিন্ন এডভেঞ্চার কার্যক্রমে যুক্ত হন। গত বছর নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং থেকে উচ্চতর পর্বতারোহণ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং তার কিছুদিন পরই লাদাখে দুটো ছয় হাজারি মিটার পর্বতারোহণ করেন। এ ছাড়া আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো ও মাউন্ট কেনিয়া জয়ের জন্য গিয়েছিলেন তিনি। তারপর স্বপ্ন এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করার। সেই অনুযায়ী নিজেকে তৈরিও করছিলেন। সাইকেল চালাতেন নিয়মিত। রত্না দৌড়াতে ভালোবাসতেন। প্রচুর বই পড়তেন। খুব অল্প বয়সেই একটি বেপরোয়া গাড়ি রত্নার জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে গেল, কেড়ে নিল রত্নার এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন। চন্দ্রিমা উদ্যানের সড়কে রত্না নামের পর্বতারোহীকে পিষে ফেলল এক ভক্সওয়াগন। বৃহস্পতিবার রত্না তার ফেসবুক পেইজে চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, সাইকেল চালানোর পর সেটি তোলা হয়েছে। অথচ পরের দিন সেখানেই পড়ে থাকল তার নিথর দেহ। আগের দিন লিখেছিলেন, ‘গুড মর্নিং’ অথচ আজ তার ছবি গণমাধ্যম ব্যবহার করছে মৃত্যুর খবরে। রেশমার মা নেই। বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নিজে ছিলেন স্বাধীনচেতা।
শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট মর্মান্তিক ঘটনা দেশের পর্বতারোহীদের মনকে বিষাদে পরিণত করল। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ভক্সওয়াগন রত্নাকে সাইড নিয়ে সাইকেলসমেত তার ওপর গাড়ি তুলে দেয়। রেশমা রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তার বাড়ি নড়াইলে। তিনি ঢাকায় মিরপুর এলাকায় থাকতেন। এর আগে তার বড়বোনের সঙ্গে পুরান ঢাকায় থাকতেন। পরে কর্মস্থল পরিবর্তন হলে তিনি মিরপুরে চলে যান।
ফেসবুকে নিজের নামের সঙ্গে বন্ধনীচিহ্নে পর্বতারোহী জুড়ে দিয়েছেন। গান, আবৃত্তি, বই পড়া, সাইকেল চালানো তার ভীষণ পছন্দ। তবে সব ছাপিয়ে রেশমা নাহারের স্বপ্ন নিজেকে পর্বতারোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এক দিন এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা। কিন্তু গাড়িচাপায় সব শেষ।
চন্দ্রিমায় ঢোকার ব্রিজের সামনের সড়কে একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। পথচারীরা উদ্ধার করে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রের একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন রেশমা। বিএমটিসির বন্ধুরা জানান, রেশমা খুবই উদ্যমী ছিলেন। গান, আবৃত্তি, পাঠচক্রে নিয়মিত অংশ নিতেন। সাইকেল চালাতে ভালোবাসতেন। তিনি সকালে সাইকেল চালিয়ে রমনায় গিয়ে শরীরচর্চা করে হাতিরঝিল যেতেন। সেখানে কয়েক চক্কর দিয়ে সাইকেল চালিয়ে বাসায় ফিরতেন। আর তার ফেরা হলো না, হলো না এভারেস্ট জয়।
