ব্যাংক সেবাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। গ্রাহক ব্যাংকে হিসাব খোলে টাকার অবাধ আদান-প্রদান ও নিরাপত্তার জন্য। যদিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রাহককে নির্ধারিত হারে ব্যাংককে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট ছাড়াও সরকারি এক্সাইজ ডিউটি বাবদ মাশুল গুনতে হয়। তারপরও মানুষ টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংককেই নিরাপদ মনে করে। যদিও আজকাল অনেক ব্যাংকের সেবা প্রশ্নবিদ্ধ। আমার কয়েকটি হিসাব থাকা সত্ত্বেও এবি ব্যাংকের পুরানো গ্রাহক হিসাবে মেয়ের লেখাপড়ার আপত্কালীন ব্যয় মেটানোর জন্য একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম একই ব্যাংকের শ্যামলী শাখায়। হিসাবে তিনবার জমা দিলেও টাকা তোলার প্রয়োজন হয়নি। সেভিং করাই এই হিসাবের মূল লক্ষ্য ছিল। যখন জানতে পারলাম আমার অ্যাকাউন্টটি ইনঅ্যাকটিভ করা হয়েছে, তখন শ্যামলী শাখার অপারেশন ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করার পরে প্রায় ১ ঘণ্টা পর ফরম দিয়ে বলা হলো ২ কপি ছবিসহ জমা দেওয়ার জন্য। প্রশ্ন করলাম, আমি তো ছবি দিয়েই অ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম, আবার ছবি কেন! আমার অ্যাকাউন্ট নোটিশ না দিয়ে কেন ইনঅ্যাকটিভ করা হলো? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। ১ বছর বা অনির্দিষ্টকাল হিসাব অপারেট না করলে অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে ব্যাংকের অসুবিধা কোথায়! অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাকটিভ বা সাময়িক বন্ধ থাকলে কেন বিদ্যুত্ বিলের ফটোকপি দিতে হবে (যে ভাড়া বাড়ির বিদ্যুত্ বিলে গ্রাহকের নাম থাকে না) তারও কোনো সদুত্তর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি। বলা হয় নিরাপত্তার স্বার্থে অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাকটিভ বা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু নোটিশ ব্যতীত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাকটিভ বা সাময়িক বন্ধ করা গ্রাহকের স্বার্থ পরিপন্থি বলে মনে করি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মেজর (অব) আলহাজ এম এ কাইয়ুম চৌধুরী রণবীর পিএসসি
বাড়ি ৪০২, মিরপুর ডিওএইচএস, মিরপুর সেনানিবাস, ঢাকা
