শরীয়তপুরে বন্যায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ২১:১৮

শরীয়তপুরের চারটি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের ৪০০ গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলোর ৩ হাজার ৬০০ গবাদি পশুর খামারি ও ৮ হাজার কৃষকের ৪০ হাজার গরু-ছাগল পানিবন্দি অবস্থায় আছে। ঐ এলাকার ১০ হাজার একর গোচারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। নড়িয়া উপজেলার খালাসিকান্দি গ্রামের কৃষক আলী আকবর খান গবাদি পশু লালনপালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গাভির দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ ও পশুর খাবারের যোগান দেন। এই মুহূর্তে তার দুটি গাভি দুধ দেয়। কিন্তু বন্যায় বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় গাভির দুধ দোহন করতে পারছেন না। আলী আকবর খান বলেন, ‘আমরা একবেলা খাবার না পেলে ক্ষুধায় ছটফট করি। বোবা প্রাণী ক্ষুধার জ্বালা নীরবে সহ্য করে, কিছু তো বলতে পারে না।’ নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি গ্রামের ওমর ফারুক চৌকিদার বলেন, ‘গাভির দুধে সংসার চলে। দেড় মাস যাবত্ এলাকায় বন্যা। এর মধ্যে এক মাস ধরে গাভির দুধ দোহন করতে পারছি না। আয় বন্ধ, সংসারের খরচ যোগাতে ঋণ করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি গাভি মারা গেছে। টাকার অভাবে গাভিগুলোকেও কোনো শুকনা খাবার কিনে খাওয়াতে পারছি না।’শরীয়তপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার দাস বলেন, র্দীঘমেয়াদি বন্যায় গবাদি পশুর অনেক ক্ষতি হবে। কাঁচা ঘাসের উত্স নষ্ট হওয়ায় মারাত্মক গোখাদ্যের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকের হাতে টাকা না থাকায় শুকনা খাবারও অনেকে কিনে দিতে পারছেন না। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে শুকনা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর যাতে গবাদি পশু রোগবালাইয়ে আক্রান্ত না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।