শীতকাল বৃদ্ধদের জন্য যদিও কষ্টের, তবে এই ঋতুতে বিরাজ করে খাবারের উত্সব মুখর পরিবেশ। বিশেষ করে গ্রামের বাড়িগুলোতে থাকে পিঠাপুলির ব্যাপক আয়োজন। বাচ্চারা শীতের সকালে উষ্ণ পোশাক গায়ে জড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটে চলে শীতের পিঠা সঙ্গে নিয়ে। এ সময় ধান কাটারও হিড়িক পড়ে। শীতকে উপেক্ষা করে কৃষকরা ছুটে চলেন মাঠে। শ্রম দিয়ে ফলানো সোনার ফসল কেটেই পার করে দেন শীত মৌসুম। সারা দিন মাঠে ধান ভানে গ্রামের কৃষাণীরা। সন্ধ্যা নামার কিছুক্ষণ আগে থেকেই গ্রাম বা পাড়ার গৃহিণীরা প্রস্তুতি নেন শীতের পিঠা তৈরির। ঘরে ঘরে নতুন চালের পিঠা উত্সব হতে থাকে। শীতঋতুতে শত ব্যস্ততার মধ্যেও গৃহিণীরা পিঠাপুলি তৈরি করেন—এ যেন চিরন্তন ব্যাপার।
শীতকে উপলক্ষ করে সারা দেশ জুড়ে পাওয়া যায়—খেজুর রসের খির, কলা পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, মেরা পিঠা, ভাপা পিঠা, চেপা পিঠা, দুধচিতই পিঠা, কুলি পিঠা, নকশি পিঠা ইত্যাদি। এগুলোর অধিকাংশই তৈরি হয় খেজুর রস দিয়ে। ছোট-বড় সকলের পছন্দের তালিকায় খেজুরের রস বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে আগের মতো খেজুরের রস পাওয়া যায় না। কয়েক বছর আগেও গ্রামগুলোতে সন্ধ্যা হলে দেখা যেত খেজুরগাছে হাঁড়ি বসিয়ে দিতে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে। আবার খুব সকালে এসে রসভরা হাঁড়ি নামিয়ে আনতেন তিনি। কিন্তু এখন সেই রকম দৃশ্য বিরল। গ্রামের মানুষের ভাষ্যমতে, খেজুরগাছ কাটা এবং গাছে হাঁড়ি দেওয়া লোকের অভাবেই এখন আর আগের মতো রস পাওয়া যায় না। গ্রাম ছেড়ে বিদেশ গিয়ে দেশে ফিরে আসা অনেকেই রসের জন্য হাহাকার করেন। দাম বেশি দিয়ে কেনার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা খেজুরের রস পান না।
তারপরও প্রতিবছর আমাদের মাঝে আসে শীতকাল। এই ঋতুতে সূর্যের আলো পাওয়া যেন পরম আনন্দের ক্ষণ। এই সময় বাড়ির উঠোন, রাস্তাঘাট এবং ছাদে রোদ পোহানোর আড্ডা হয়ে ওঠে নিত্যনৈমিত্তিক অভ্যাস।
