রাজধানীর পল্লবী থানার ভিতরে বোমা বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অপেশাদারিত্বকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। ভবিষ্যতে থানাগুলোতে এ ধরনের বিস্ফোরক বা বোমা জাতীয় বস্তু কীভাবে ‘হ্যান্ডল’ করবে তা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বোমা, অস্ত্র ও গুলি কীভাবে, কার মাধ্যমে এসেছে তা খতিয়ে দেখবেন অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। গত সোমবার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দিয়েছে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পল্লবী থানার ভিতরে বোমা বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি তার কাছে রিপোর্ট দিয়েছে।’ কমিটি কি রিপোর্ট দিয়েছে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ২৯ জুলাই ভোরে পল্লবী থানা ভবনের দোতালায় পরিদর্শক (অপারেশন্স) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে ওজন মাপার যন্ত্রের মতো দেখতে হাতে বানানো একটি বোমা বা আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভড ডিভাইসড) বিস্ফোরিত হয়। এতে ৪ পুলিশ সদস্য ও একজন পুলিশ সোর্স আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হয়। ঘটনার পর ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনন্স) মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ ও পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলামসহ ৬ কর্মকর্তাকে বদলি করেন।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘থানার ভেতরে বোমা কিভাবে, কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তদন্ত করেছি। এক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের সমস্যা ছিল। সঠিক প্রক্রিয়ায় তা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্বের অভাব ছিল। রিপোর্টে আমরা সেগুলো উল্লেখ করেছি। এছাড়া থানাগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাও সুপারিশ করা হয়েছে।’
তবে অভিযোগ রয়েছে, গুলিসহ অস্ত্র ও বিস্ফোরক অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হলেও সেগুলো তাদের (গ্রেফতার তিন আসামি) কাছ থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তায়জুল ইসলাম বাপ্পী ও পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানার মধ্যকার দ্বন্দ্বের জেরে পুলিশের সহায়তায় এই ‘নাটক’ সাজানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণের অর্থের বিনিময়ে যুবলীগ নেতা জুয়েল রানাকে ফাঁসানোর জন্য এই ফাঁদ পাতা হয় এবং এই পুরো বিষয়টির সঙ্গে পুলিশ জড়িত। এরই জের ধরে গত ২৭ জুলাই রাতে পুলিশ সোর্স রিয়াজুল একটি ব্যাগে করে বোমাগুলো থানা ভবনের দোতলায় ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে নিয়ে যান। এর আগেই ওই দিন বিকালে পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকা থেকে পুলিশের একটি টিম শহীদুল, মোশাররফ ও রফিকুলকে আটক করে। তাদেরকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে পল্লবী থানায় নিয়ে আসে।
আরো পড়ুন : মেহেরপুরে করোনার উপসর্গে একজনের মৃত্যু
২৯ জুলাই ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) ইমরানুল ইসলামের কক্ষে পুলিশ সোর্স রিয়াজুল ব্যাগ থেকে একটি ওজন মাপার যন্ত্র বের করেন। ওই যন্ত্রের ভিতর তিনটি বোমা স্থাপন করা ছিল। রিয়াজুল একটি বোমা ওজন মাপার যন্ত্র থেকে খুলে টেবিলের ওপর রাখেন। বোমাটি রাখার পর একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘বোমা সঠিক নাকি ভিতরে বালু ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে? এ কথা শোনার পর সোর্স রিয়াজ বোমাগুলো কার্যকর নাকি অকার্যকর তা দেখার জন্য একটি বোমার চারপাশে প্যাঁচানো স্কচটেপ খুলতে থাকে। এর মধ্যে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় বোমাটি। ফলে কক্ষের ভেতরে থাকা দুই সাব ইন্সপেক্টরসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। বিস্ফোরণে রিয়াজের বাম হাতের কবজি উড়ে গিয়ে কক্ষের ছাদে ঝুলতে থাকে।
ইত্তেফাক/ইউবি
