একজন স্বপ্নবাজের চলে যাওয়া

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ২১:৫০

‘একজন সাধারণ শিক্ষক পড়ান, একজন ভালো শিক্ষক ব্যাখ্যা দেন, একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শিশুদের অনুপ্রাণিত করেন।’ শিক্ষাবিদ কারলাইন্সের এই কথাটি আমাদের অনেকেরই জানা। একজন মানুষ অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে কথা না বলে যদি নিজের কাজকেই ব্যবহার করেন, তবে তার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? ঠিক তেমনই একজন শিক্ষক ছিলেন ঢাকা শহরের আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেশমা নাহার রত্না। যিনি স্বপ্ন দেখানোর আগে নিজে স্বপ্ন দেখতেন। কার্যপরিধি কেবল শিশুদের পাঠ্যপুস্তক পড়ানো আর গত্বাঁধা পরীক্ষা নেওয়াতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষক হলেও পর্বতারোহী ও সাইক্লিস্ট হিসেবেও তার দক্ষতা ও অর্জন ছিল। এভারেস্ট জয়ের অনন্য স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছিলেন এই তরুণ নারী স্বপ্নবাজ। অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাগার, আলোর ইশকুল, পাঠচক্রসহ নানা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রত্নার পর্বতারোহণ অভিযান শুরু হয় ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেওক্রাডংয়ের চূড়ায় উঠে। ২০১৮ সালে অংশগ্রহণ করেন আফ্রিকার উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কিলিমানজারো ও দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত মাউন্ট কেনিয়া অভিযানে। গত বছরের আগস্টে ভারতের লাদাখে ৬১৫৩ মিটার উচ্চতার স্টক কাঙ্গরি পর্বত এবং ৬২৫০ মিটার উচ্চতার কাং ইয়াতসে-২ পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করেন। এরপরের লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর। কিন্তু তার আগেই পিচঢালা সড়ক রক্তাক্ত হয় রত্নার উষ্ণ রক্তে! সাইকেল চালানো অবস্থায় ৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। ভিআইপি সড়কে এমন দুর্ঘটনাকে হত্যাই বলতে হবে। হত্যা করা হয়েছে একজন স্বপ্নবাজ শিক্ষককে। আমরা জীবন ও স্বপ্নের এমন অপমৃত্যু নয়, নিরাপদ সড়ক চাই।

আবু ফারুক

সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবান