রাজশাহী দলের অনুশীলন শেষ হয়ে গেছে। সবাই মাঠ ছেড়ে চলেও গেছেন। এর মধ্যে হন্তদন্ত হয়ে নিজেদের ড্রেসিংরুমের দিকে আবার ফিরে এলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পাশ থেকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী মিরাজ, খুব ব্যস্ত মনে হচ্ছে?’
মিরাজ কিছু বলার আগেই একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার সতীর্থ মুস্তাফিজুর রহমান বললেন, ‘এখন ক্যাপ্টেন না? তাই একটু ব্যস্ত থাকে।’
এবার মিরাজ হাসলেন। হেসে সবার দিকে ফিরে বললেন, ‘নাহ, রে ভাই। ক্যাপ্টেন হয়ে নতুন কিছু হইনি। আগের মতোই আছি।’
এই কথাটা বারবারই বোঝানোর চেষ্টা করলেন মিরাজ। একান্তে আলাপ করতে গিয়ে বারবার বললেন, অধিনায়কত্ব একটা বাড়তি দায়িত্ব মাত্র। এতে তার ভেতর কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আগের মতোই মিরাজ আছেন।
মিরাজ হয়তো অধিনায়কত্ব পেয়ে বদলাননি। কিন্তু মিরাজের অধিনায়কত্ব একটা বড় খবর হয়ে এসেছে বাংলাদেশের জন্য। অধিনায়কত্ব ব্যাপারটা তার জন্য নতুন কিছু নয়। যুব বিশ্বকাপেও নিজের দেশের অধিনায়কত্ব করেছেন। অনেকেই তার মধ্যে ভবিষ্যতের একজন অধিনায়ক দেখতে পান। তারপরও মাত্র ২১ বছর বয়সে বিপিএলের একটা দলের অধিনায়কত্ব পাওয়াটা কম ব্যাপার নয়।
মিরাজের দলের সিনিয়র সদস্য আরাফাত সানি বলছিলেন, মিরাজ এ বয়সে কাজটা খুব ভালোই করছেন। আর তাদের কাছ থেকে দারুণ একটা সমর্থন পাচ্ছেন বলেই জানালেন সানি, ‘মিরাজ হয়ত বিপিএলে প্রথম অধিনায়কত্ব পালন করতেছে। কিন্তু সে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ছিল সে, সেরা ক্রিকেটারও হয়েছে আমাদের। ওর জন্য একটু বাড়তি দায়িত্ব বলা যায়। আমরা ওকে ইতিবাচক সহায়তা করছি। সে যা করতে চায় করতে পারছে।’
মিরাজ নিজেও বললেন, সতীর্থদের কাছ থেকে এই যে সমর্থন পাচ্ছেন, এটাই এখন তার সম্পদ। এই অল্প বয়সেই তার ওপর ভরসা রাখায় মিরাজ ম্যানেজমেন্টের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে যে সমর্থন পাচ্ছেন, সে জন্য কৃতজ্ঞ, ‘আমি ম্যানেজমেন্টের কাছে খুব কৃতজ্ঞ যে, তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই সঙ্গে দলের সব খেলোয়াড় আমাকে দারুণ সাপোর্ট করছেন। ম্যানেজার, কোচ, সাপোর্ট স্ট্যাফ সবার কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছি। আমার জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। আমি অধিনায়কত্বটা শিখছি। আর একটা মাত্র ম্যাচ গেল। তারপরও বলব, উপভোগ করছি।’ মিরাজের দলে দেশি-বিদেশি সিনিয়র ক্রিকেটার কম নেই। এর মধ্যে নামকরা তারকাও আছেন। এদের এই অল্প বয়সে সামাল দেওয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কিন্তু মিরাজ মনে করেন, এদের আসলে সামাল দেওয়ার দরকারই নেই, ‘আমার খুব একটা সামলানো লাগছে না। যেটা বললাম যে, সবাই ভালো সাপোর্ট করছেন। আর এই পর্যায়ে সবার তো খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সবাই জানেন যে, কাজটা কী। সে জন্য আমার কাজটা সোজা হয়ে যাচ্ছে। এটা ঠিক, প্রথম ম্যাচে জয় পেলে কাজটা আরেকটু সহজ হতো।’
মিরাজের অধিনায়কত্বের ক্ষেত্রে বড় ভরসা হলো অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে পাওয়া তার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতাটা যে বিপিএলে কাজে লাগবে, সে ব্যাপারে এ অলরাউন্ডারেরও সন্দেহ নেই, ‘হ্যাঁ, ওই অভিজ্ঞতাটা নিশ্চয়ই কাজে লাগবে। ওই সময় আমি টানা অনেকদিন অধিনায়কত্ব করেছি। ফলে বেসিক ব্যাপারগুলো ওখান থেকে শিখে এসেছি বলা যায়। তারপরও যুব পর্যায়ের সঙ্গে এই পর্যায়ের কিছু পার্থক্য তো থাকেই। সেটা আছে। তবে আমার ধারণা, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অধিনায়কত্ব করায় আমার জন্য কাজটা একটু হলেও সহজ হবে।’
