স্পোর্টস রিপোর্টার
এর আগে মাত্র ২১ বার (ইংল্যান্ড ১৩ বার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ বার, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ বার ও নিউজিল্যান্ড ১ বার) অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জয় করে ফিরতে পেরেছিল কোনো ভিনদেশি দল। গতকাল এর ২২ তম নজিরের দেখা মিললো। নিষ্প্রাণ ড্রয়ের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতের সিরিজ জয়। এর মধ্য দিয়ে দলটি গড়লো নতুন ইতিহাস। নিজেদের ইতিহাসে এবারই যে প্রথমবারের মত ভারত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতলো।
চার ম্যাচের সিরিজে ড্র হলো কেবল গতকাল শেষ হওয়া সিডনি টেস্ট। অ্যাডিলেড ও মেলবোর্নে জয় পাওয়া ভারত ২-১ ব্যবধানে ঘরে তুললো সিরিজ। এরই মধ্য দিয়ে ৭১ বছরের অপেক্ষার অবসান দল। উপমহাদেশের প্রথম দল হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ জিতল বিরাট কোহলির দল।
কুলদীপ যাদবের স্পিনে সিডনি টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩২২ রানের লিড নিয়েছিল সফরকারীরা। চতুর্থ দিন অস্ট্রেলিয়া ৪ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে করে ছয় রান। ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতার হাতছানি ছিল কোহলিদের সামনে। সেই চেষ্টা করতে দিল না টানা বৃষ্টি। লম্বা সময় অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় পঞ্চম দিনের খেলা। এর অর্থ হল পঞ্চম দিনে একটা বলও মাঠে গড়ালো না।
অধিনায়ক বিরাট কোহলির মুকুটেও যুক্ত হল নতুন আরেকটি পালক। এই নিয়ে চতুর্থ বারের মত তিনি দেশের বাইরে দলকে টেস্ট সিরিজ জেতালেন। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে তিনি দলকে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতিয়েছেন। এরপর ২০১৭ সালে আবারো শ্রীলঙ্কার মাটি থেকে টেস্ট জিতিয়ে ফিরিছে বিরাট কোহলি দল। আর এবার সম্ভবত ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় বাঁধাটা পার করলেন বিরাট কোহলি।
তিনি নিজেও এই সিরিজ জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন। তিনি ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য। ২০১১ সালে আমরা যখন বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, তখনকার সেই দলটায় আমিই ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। আমার চারপাশের মানুষগুলোকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখেছিলাম। তবে, আমি নিজে কিন্তু সে ভাবে ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়ায় এটা আমার তৃতীয় সফর। এতদিন ভারতীয় ক্রিকেট দল যা পারেনি এবার আমরা সেটাই করে দেখালাম। স্বভাবতই এই সাফল্যের জন্য আমরা গর্বিত।’
সিরিজ জয়টা সিডনি থেকে আসারও আলাদা গুরুত্ব আছে। ২০১৪ সালে অনেকটা হঠাত্ করেই মহেন্দ্র সিং ধোনি অবসর নিয়ে ফেলার পর এই সিডনি থেকেই অধিনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় বিরাট কোহলির। চার বছর বাদে বিরাট কোহলির বয়স এখন ৩০। আগের চেয়ে তিনি এখন অনেক পরিণত। আর এই পরিণত সময়ে এসে মিললো আরো বড় এক মাইলফলক।’
বিরাট কোহলি মনে করছেন, এই সিরিজ জয়টা তার দলের জন্য অন্যরকম পাওয়া। বাকি দলগুলোর এখন ভারতের ব্যাপারে ধারণা আগের চেয়ে অনেকটাই পাল্টে যাবে। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলতে পারি, এই জয় আমাদের দলকে নতুন করে পরিচিতি এনে দেবে। ভবিষ্যতে এই কীর্তির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ প্রজন্মকে এই সিরিজ অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা যোগাবে।’
ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা- দু’টো পুরস্কারই পেয়েছেন চেতেশ্বর পুজারা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই যুগে এসে তিনি আজো টেস্ট ক্রিকেটের পতাকা উড়িয়ে চলেছেন। এই টেস্ট সিরিজেই এই পতাকা বাহক যেন নিজেকে নিয়ে গেলেন আরো ওপরের স্তরে। রেকর্ড ১২৫৮ বল খেলে করেছেন ৫২১ এক রান। নি:সন্দেহে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বিরাট ও তার দল!
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
টস: ভারত
ভারত প্রথম ইনিংস: ৬২২/৭ ইনিংস ঘোষণা
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৩০০ ও দ্বিতীয় ইনিংস ওভারে ৬/০ (ফলোঅন)
ফলাফল: ড্র
সিরিজ: চার ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী ভারত
ম্যাচ সেরা: চেতেশ্বর পুজারা।সিরিজ সেরা: চেতেশ্বর পুজারা
