খাদ্য এবং আবাসস্থল সংকটে টেকনাফ বনাঞ্চলের হাতি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৩

হানা দিচ্ছে লোকালয়ে

 টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে টেকনাফ বনাঞ্চলের বন্যহাতি। খাদ্য সংকটের পাশাপাশি আবাসস্থল সংকটও দেখা দিয়েছে। বনে খাদ্য সংকটের কারণে খাবারের সন্ধানে হাতির পাল প্রতিদিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

জানা গেছে, এই বনাঞ্চলের হাতিদের এমন পরিস্থিতিতে আর কখনো পড়তে হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে বনাঞ্চলের গাছ-গাছালিতে পাতা ঝরে যাওয়ায় ও ছরা-ঝিরিতে পানি না থাকায় খাদ্য এবং পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা পাহাড়ি এলাকায় ঘর-বাড়ি তৈরি করায় হাতির আবাসস্থল এবং করিডোর বন্ধ হয়ে গেছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, টেকনাফ বনাঞ্চলে প্রায় ৪০টি হাতি রয়েছে। তারা কয়েকটি পালে বিভক্ত হয়ে বনে চলাচল করে। একটি হাতির দৈনিক ২শ কেজি খাবারের প্রয়োজন পড়ে। বনে গাছ-গাছালি না থাকায় ওই পরিমাণ খাদ্যের যোগান দেওয়া খুব বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে হাতির খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ন্যাচারেল ফরেস্টকে রক্ষা করা দরকার বলে মনে করছেন বন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নতুন করে বাঁশপাতা, কলাগাছ, উলুফুল এবং ফলের বাগান করতে হবে। এছাড়া নিরাপদ আবাসস্থলের জন্য করিডোর শনাক্ত করে চলাচলের পথ ঠিক করতে হবে। জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হাতি সংরক্ষণের উপায় নেই জানিয়ে সচেতন মহল টেকনাফ বনাঞ্চলে বন্যহাতির খাদ্য এবং আবাসস্থল সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়া এলাকার মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী মো. আলমগীর জানান, খাদ্যাভাবে বন্যহাতি প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এতে কৃষকের ফসল হানির পাশাপাশি জনসাধারণেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, হাতি জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ। সংরক্ষণের অভাবে মানুষ এবং প্রাণীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আসলে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে বন বিভাগের জায়গায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এত সংখ্যক লোক জ্বালানির চাহিদা মেটাচ্ছে বনের গাছ এবং শেকড় কেটে। বনে চলাচলের পথ বন্ধ এবং খাদ্য সংকটে পড়ে হাতি প্রজনন ক্ষমতা পর্যন্ত হারাতে বসেছে। হাতির খাদ্য এবং আবাসস্থল সংকট সমাধানে তিনি রোহিঙ্গাদের মাঝে বিকল্প জ্বালানি প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।