মাধ্যমিকে সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণে তিন প্রস্তাব

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৯

করোনা পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণের জন্য তিনটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরে ৭০ দিন সময় পেলে সিলেবাসের কোন অংশটুকু পড়ানো হবে, ৫০ দিন পেলে কতটুকু পড়ানো যেতে পারে এবং ৩০ দিন সময় পেলে কতটুকু অংশ বাতিল করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ানো যেতে পারে সে ধরনের তিনটি প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করে তিন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করছেন। এরপর সেসব প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

শিক্ষার এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ চূড়ান্ত করতে গতকাল বুধবার এনসিটিবিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার এ কর্মশালা শেষে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সূত্র জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস পড়িয়ে বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। বর্তমান সিলেবাসের যে অংশটুকু গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো রেখে বাকিগুলো বাদ দেওয়া হবে। পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে যুক্ত করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হলে অটো পাশের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রাথমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বিইডিইউ) তৈরি করেছে মাধ্যমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে এনসিটিবিতে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি শ্রেণির ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে ‘রিকভারি প্ল্যান’ তৈরি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ মহামারি শেষে সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) কেন্দ্রীয়ভাবে সীমিত পরিসরে, এর পরে খুললে স্কুলে স্কুলে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে স্কুল খুললে তখন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, আমরা মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্কুলে স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছি। তখন হয়তো ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। যদি সম্ভব হয় এমসিকিউ আমরা করতে পারি।

নভেম্বরের মধ্যে যদি স্কুল খোলা না যায় তখন কী হবে—এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তখন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অটো পাশের কোনো চিন্তা নেই। আমরা আগামী সপ্তাহে আমাদের পরিকল্পনাগুলো, তিনটি পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাব। তিনি যেটা মূল্যায়ন করবেন, আমাদের সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করব। পরীক্ষা নেওয়া হবে না বা হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই।