অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের গুরুত্ব

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪১

বর্তমানে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রসরমান একটি দেশ। স্বল্পোন্নত দেশ হইতে উন্নীত হইয়াছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। আগামী এক-দুই দশকের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হইবার জন্য নির্ধারণ করা হইয়াছে লক্ষ্যমাত্রা। তবে আমাদের সম্মুখে এখন চ্যালেঞ্জ হইল অর্জিত অবস্থান সংহত করা এবং নূতন লক্ষ্যে পৌঁছাইবার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এইজন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হইতেছে আমাদের যে ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা রহিয়াছে তাহার যথাযথ ও কৌশলগত সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। এইক্ষেত্রে কানেকটিভিটি বা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজন সম্ভাবনাময় ইকোনমিক করিডোরের বাস্তবায়ন। ইহাতে ব্যবসায়ের ব্যয় বা কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমিয়া যাইবে। বাড়িবে উত্পাদন ক্ষমতা। বিশ্ববাজারে এবং একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হইবে।

সমপ্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ‘রিয়ালাইজিং দ্য পটেনশিয়াল অব বাংলাদেশ থ্রু ইকনমিক করিডোর ডেভেলপমেন্ট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়াছে। তাহাতে বলা হইয়াছে যে, কাঠামোগত রূপান্তর এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক করিডোর উন্নয়নের মতো উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করিতে হইবে। বিশেষ করিয়া এই ব্যাপারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে গুরুত্ব দিবার কথা বলা হইয়াছে। খুলনা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্ শহর হওয়ায় এবং এখানে নৌ-বন্দর সুবিধা থাকায় এই অঞ্চল পণ্য বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার হইতে পারে। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভুটান ও ভারতের  উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কানেকটিভিটির মাধ্যমে বহুমুখী পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা যায়। ইহাতে এখানকার উত্পাদন বা অর্থনৈতিক আয় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হইবে বলিয়া জানা যায় যাহা স্বাভাবিক আয়ের চাইতে তিনগুণেরও বেশি। শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্মসংস্থান হইবে আড়াই কোটি মানুষের। ২০৫০ সাল নাগাদ যাহা উন্নীত হইবে সাড়ে তিন কোটিতে। এইজন্য এডিবি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন, বিশেষ করিয়া মত্স্য ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তৈরি পোশাক, বাইসাইকেল, অটোমোবাইল, শিপবিল্ডিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়াজাত পণ্য, আসবাব পণ্য, গ্লাস, সিরামিক, প্লাস্টিক, টায়ার প্রস্তুত কারখানা স্থাপনসহ ১৪টি শিল্প খাতের প্রতি গুরুত্বারোপ করিয়াছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগে আমাদের ১৬টি ইকোনমিক করিডোর নির্মাণ পরিকল্পনাধীন রহিয়াছে। আর এডিবির অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তাব ইহাই নূতন নহে। ইহার আগে তাহারা ৯টি অর্থনৈতিক করিডোর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব তুলিয়া ধরেন। তবে যে রুটগুলি দিয়া আমরা তৃতীয় দেশে যাইতে পারিব, ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেইগুলিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ইহার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যাহাতে বাংলাদেশ স্থলসেতু হিসাবে ভূমিকা রাখিতে পারে সেইভাবে করিডোরগুলি নির্মিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আবার ইউনিমোডালের পরিবর্তে মাল্টিমোডাল বা বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয়ে ইকোনমিক করিডোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করিলে তাহা আরও ফলপ্রসূ হইবে এবং অর্থনীতিতে তাহার দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে। বাংলাদেশ করিডোর ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে (বিসিএমএ) এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হইবে। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা), হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনও করিতে হইবে।