সৈয়দ আশরাফ ও আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৩

মোহাম্মদ শরীফ

সৈয়দ আশরাফের চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক পাড়ায় শোকের ছায়া পড়ে গেছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই শোকে কাতর আওয়ামী লীগের এই সাবেক সাধারণ সম্পাদকের চির বিদায়ে। স্বৈরশাসক এরশাদের পতন অর্থাত্ গণতন্ত্র পূর্ণ-প্রতিষ্ঠার পর সৈয়দ আশরাফ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন শক্তিশালী ডিফেন্ডার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগশিবিরে এই রাজনৈতিক ছিলেন নির্বরতার অন্য নাম। ’৭৫ পরবর্তী ভাগ হওয়া যে আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনা ঐক্যবদ্ধ করেছেন, সেই আওয়ামী লীগকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে, সৈয়দ আশরাফের মতো ত্যাগী নেতার ভূমিকা ছিল অনন্য উচ্চতায়। মানুষের রক্তের গ্রুপ যদি এ, বি, সি ছাড়া অন্য কোনো সাংকেতিক নামে প্রকাশ করা যেত, তাহলে সৈয়দ আশরাফের রক্তের গ্রুপ হতো আওয়ামী লীগ। শুধু মন-প্রাণ নয়, তাঁর পুরো দেহটা ছিল আওয়ামী লীগ। দলের উচ্চপদে থেকেও অসংখ্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। স্ত্রীর চিকিত্সা করেছেন নিজের বাড়ি বিক্রি করে। সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর দলটি সংকটময় এক পরিস্থিতিতে পড়তে থাকে। তখনকার সরকারি দলের শক্তিশালী অবস্থান আওয়ামী লীগকে সংকটে ফেলে দেয়। বিএনপি সমর্থিত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশার আলো দেখতে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর দলটি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আলো ফোটার আগেই এক অন্ধকার মেঘ তা ঢেকে দেয়। দেশে আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। গ্রেপ্তার হয় বড় দুই দলের প্রধান নেতা। যাকে এখন বলা হচ্ছে ‘মাইনাস টু ফরমূলা’। অর্থাত্ বড় দুই দলের, দুই নেতাকে রাজনীতি থেকে চির বিদায়ের চক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে, সেনা সমর্থিত সরকার দলের নেতাদের অফার করেন বিকল্প সরকার গঠনের। সেনাদের অফারে কিছু কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ‘হ্যাঁ সূচক’ বাক্যের প্রতি হেলে পড়েন। ফলে, কঠিন এক নড়বড়ে অবস্থায় পড়ে যায় আওয়ামী লীগ দলটি। প্রায় অস্তিত্ব বিলীনের পথে থাকা আওয়ামী লীগের তখন হাল ধরেন যে কয়েকজন নেতা, তার মধ্যে অন্যতম হলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আজকে ২৮৮ আসন নিয়ে যে আওয়ামী সরকার গঠন করেছে, সে আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারতো ২০০৭ সালেই। সৈয়দ আশরাফের মতো ত্যাগী ও খাঁটি নেতা ছিল বলেই আওয়ামী টিকে আছে ও এখন ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন বলা হচ্ছে সৈয়দ আশরাফের নীতি ও নৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের কথা। যারা দল ও দলের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সহজেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছেন। তাদের কাছে আদর্শ ও নৈতিকতার কথা মুখের বুলি মাত্র। স্বচ্ছ রাজনীতি ও দলীয় নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে সৈয়দ আশরাফের মতো নেতাদের মহত্ কাজগুলোর কথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তবেই দেশে তৈরি হবে সৈয়দ আশরাফের মতো অসংখ্য নীতিবান আশরাফ। যারা ব্যক্তি নন, রাজনীতি করেছেন দল ও দেশের জন্য। 

n লেখক :শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা