দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে আমলের সম্পর্ক

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৯:২৩

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাধারণ কিছু কাজ থাকে, যেমন খাওয়া, ঘুম, গোসল, রান্না-বান্না, প্রতিবেশীদের সঙ্গে খোশগল্প, গৃহপালিত পশু লালনপালন, বাচ্চাদের দেখভাল ইত্যাদি। এইগুলো আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিত্যকার ঘটনা। যদিও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এই কাজগুলো দুনিয়ার জীবনের জন্য কিন্তু আমরা যদি এই কাজগুলোই আল্লাহর হুকুম আর নবির তরিকায় করতে পারি তাহলে এইগুলোও আমার পরকালের কামাই হিসাবে গণ্য হয়ে যাবে। প্রথমেই আসি খাওয়াদাওয়ার দিকে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘হে আদম-সন্তানরা! তোমরা প্রত্যেক সিজদার স্থলে বা মসজিদে (নামাজের সময়) সৌন্দর্য গ্রহণ করো (পোশাক ও সাজসজ্জা পরিধান করে নাও), খাও, পান কর ও অপব্যয় কোরো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ :৩১)। অর্থাত্ আমি যখন রসুলের তরিকা অনুযায়ী খাবারটা খাব তখনই তা আমার আমলনামায় ইবাদত বলে গণ্য হবে। দৈনন্দিন জীবনের আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঘুম। এই ঘুমটাও আমার ইবাদত বলে গণ্য হবে যদি তা আল্লাহর হুকুম ও নবির তরিকামতো হয়। রাতে ঘুমানোর আগে আমি যদি এশার ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করি এবং ঘুম থেকে উঠে ফজরের ফরজ জামাতে আদায় করতে পারি, তাহলে এই ঘুমটাও আমার ইবাদত বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা আমার এই ঘুমের ব্যাপ্তিকালটা নফল ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। এছাড়া দুপুরে একটু শুয়ে বিশ্রাম নেওয়াও সুন্নত। ঘুমানোর আগে বিছানা ঝাড়ু দিয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে ঘুমানোও সুন্নত। বিজ্ঞানের ভাষায় বাম দিকে হূিপণ্ড থাকায় বাম কাতে শুয়ে থাকলে হূিপণ্ডে দেহের অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

রান্নাবান্না করাও দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম একটি কাজ। সাধারণত বাড়ির স্ত্রীরাই বেশির ভাগ রান্নাবান্নার দিকটি করে থাকে। স্ত্রী লোকদের রান্না খেয়ে পরিবারের পুরুষ লোকগুলো যতক্ষণ ইবাদতে লিপ্ত থাকবে, ততক্ষণ এই ইবাদতের একটি অংশ সেই স্ত্রী লোকের আমলনামায় লেখা হতে থাকে। এছাড়া রসুল (স) তরকারি রান্নার সময় ঝোল বেশি দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাত্ তরকারিতে বেশি ঝোল দেওয়া সুন্নত। আমাদের আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের মধ্যে প্রায়ই অসুস্থ হওয়ার কথা শোনা যায়। আমরাও তাদের দেখতে যাই। এই রোগী দেখতে যাওয়াও সুন্নত। হজরত আলী (রা) বর্ণনা করেন, আমি রসুল (স)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকালে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করে। (তিরমিজি :৯৬৭)।  প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, তাদের খোঁজখবর নেওয়াও (তিনি অমুসলিম হলেও) আমাদের জীবনযাপনের অন্যতম একটি সাধারণ কাজ। রাসুল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ইমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (মুসলিম : ১৮৫)

এছাড়াও সন্তানের দেখভাল করা, পশুপাখির প্রতি দয়া দেখান, মুসকি হাসি দেওয়া, মেসওয়াক করা, পায়খানায় পানি খরচ করা ইত্যাদি স্বাভাবিক কাজ হলে আল্লাহ হুকুম আর নবির তারিকায় করতে পারলে তাই ইবাদতের অংশ হিসেবে পরকালের জন্য জরিয়া হয় যাবে। কিন্তু তার জন্য আমাদের প্রয়োজন শুধু পরকালের নিয়ত করে কাজটি সম্পাদান করা। কারণ রসুল বলেন প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল কাজকে ইবাদতের জন্য কবুল করুক। আমিন।

lলেখক :শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়