টাঙ্গাইলে বন্যার পানি কমছে

যমুনা-ধলেশ্বরীতে তীব্র ভাঙন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ২১:২৩

টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙন। বিশেষ করে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে ভাঙনের মাত্রা তীব্র। বন্যার দুর্ভোগ শেষ হতে না হতেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষগুলো। মাঝে মধ্যে ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি হয় যে, অনেকে তাদের বাড়িঘর সরানোর সময়ও পায় না। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভাঙন কবলিতদের। অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভাঙন কবলিতদের পুনর্বাসন করা হবে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর, ভুঞাপুর, নাগরপুর ও কালিহাতী উপজেলার নদীপাড়ে ভাঙছে বেশি। বাড়িঘর, গাছপালার সঙ্গে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। হারিয়ে গেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া, হুগড়া, মাহমুদনগর, কাতুলী, ভুঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর, সলিমাবাদ, কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। মির্জাপুর, গোপালপুর ও বাসাইলে এখনো ভাঙনের তীব্রতা শুরু হয়নি। এসব এলাকায় পানি আরো কমার পর ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। নাগরপুর উপজেলার পাইকশা মাইঝাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, গত বছর ভাঙন দেখা দেওয়ার পরই যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ঘরবাড়ি যমুনায় চলে যেত না। খাসঘুনীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের ভাঙনে অনেক ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন কবলিত মানুষগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান বলেন, ভাঙন কবলিত মানুষদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। তাছাড়া তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙন প্রবণ এলাকাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে বাঁধ নির্মাণ করা যাবে। তখন আর নদী ভাঙবে না।