রুপার চেইন ও বিছার জন্য শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ১১:০৯

রাজশাহীর চারঘাটে গলার রুপার চেইন ও কোমরের বিছার জন্য ননদের দেড় বছরের শিশু আজমাইন সারোয়ার আলিফকে নদীতে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এক নারী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উপজেলার চক শিমুলিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫) ওই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। 

জবানবন্দিতে মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে মাদকাসক্ত আজাদ আলীকে দিয়ে শিশুটিকে নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। এ ঘটনায় মাদকাসক্ত আজাদ আলীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, গত ৯ আগস্ট চারঘাট মডেল থানাধীন কালুহাটি গ্রাম সংলগ্ন বড়াল নদী থেকে পুলিশ এক বছর সাত মাসের শিশু আলিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা চম্পা বেগম ওইদিন তার ভাবী পারভীন বেগমকে একমাত্র আসামী করে চারঘাট মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ এজাহার নামীয় আসামী পারভীন বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পারভীন বেগম বলেন, একই গ্রামের মাদকাসক্ত আজাদকে (৩৬) নিয়ে ৭ আগস্ট শিশু আলিফকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরপর পরিকল্পনা মোতাবেক ৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মায়ের সামনে থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজ বাড়িতে যান পারভীন। পরে দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনে রাস্তায় অপেক্ষমান সহযোগী আজাদের কাছে শিশু আলিফকে হস্তান্তর করেন। পরে মাদকাসক্ত আজাদ গলা থেকে রুপার চেইন ও কোমর থেকে বিছা খুলে নিয়ে শিশু আলিফকে বড়াল নদীতে ফেলে দেয়। এরপর আজাদ পারভীনের হাতে রুপার চেইন ও কোমরের বিছা তুলে দেয়। এসময় পারভীন মৌখিক চুক্তিমত মাদকাসক্ত আজাদকে ৩০০ টাকা পরিশোধ করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার আগে পারভীন বেগমকে নিয়ে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির আঙ্গিনার লিচু গাছের তলায় আবর্জনার স্তুপের নিচে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় শিশু আলিফের রুপার চেইন ও কোমরের বিছা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পারভীনের সহযোগী আজাদকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর