তোমাকে দেখেছি পিতা এ জীবনে মুখোমুখি মাত্র তিনবার
কী বিস্ময় আজ তুমি স্নায়ুকোষে দিনরাত্রি লক্ষ লক্ষবার
স্মৃতির জোনাকি যেন অপার্থিব সৌন্দর্যের শিখা!
যখন জীবনে ছিলে তখন বুঝিনি তুমি কী বিশাল ছিলে!
দেশপ্রেমে তুমি ছিলে এমনই উজ্জ্বল যেন সূর্যেরও অধিক
প্রাণের চেয়েও প্রিয় ছিল এই দেশ আর দেশের মানুষ
হন্তারক ছদ্মবেশে প্রতিদিন চারপাশে ঘুরেছে তোমার
সামান্য সন্দেহ পিতা কখনো করোনি কোনোদিন!
একদিন মধ্যরাতে টলে উঠলো বিশ্বাসের পৃথিবী তোমার
তুমি শুধু অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে প্রথম সেই তাকালে একবার।
করুণ কারবালা যেন ঘটে গেল সেই রাতে তোমার বাড়িতে
ইমামের মতো তুমি সন্তানস্বজনসহ শহিদ সে রাতে!
টলে উঠলো হিমালয়, কাঁদলো আকাশ আর হাওয়া
শ্রাবণের ভিজে যাওয়া শোকার্ত পাতারা অবিরল
অশ্রুপাত করে গেল, তখনো বুঝিনি পিতা তুমি
কত যে শূন্যতা দিয়ে গেছ এই দেশকে তোমার!
তোমাকে হত্যার পর ধসে গেছে মুক্তিযুদ্ধ : মৌল চার নীতি
ধসে গেছে মানবিক মূল্যবোধ আর মুক্তচিন্তা—স্বাধীনতা
গণতন্ত্র চলে গেছে অস্ত্রের দখলে আর সেনা ছাউনিতে,
তোমার শূন্যতা এত ভয়াবহ বুঝিনি তখনো।
তোমাকে চিনিনি পিতা তুমি ছিলে কোন উচ্চতায়!
মেঘের ওপরে মেঘ ছাপিয়ে গেলেও স্পর্শাতীত
তোমাকে চিনেছে বিশ্ব মুক্তিযুদ্ধে মহত্তম নেতা
বিদেশি পণ্ডিত আর মহাজ্ঞানী-জন অভিভূত!
পিতৃহারা হয়ে জানি আমি কোন বীরের সন্তান!
কত আক্রমণ ছিল তোমার বিরুদ্ধে আজ বুঝি
তুমি প্রতিশোধহীন, সবুজ বিপ্লবে মগ্ন ছিলে,
সমৃদ্ধির স্বপ্নে তুমি ভুলে গেলে শত্রু-পূর্বাপর।
যেন তুমি ধর্মগ্রন্থ, নীরব অক্ষর আজ কল্যাণের বাণী
ক্ষমা করো এই গ্লানি—তোমাকে চিনিনি পিতা বহুদিন আমি।
