চট্টগ্রামে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের গণপিটুনি, চাঁদাবাজ নিহত

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২

চট্টগ্রামে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও জনতার গণপিটুনিতে এক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে । নিহত ব্যক্তির নাম মো. মহিউদ্দিন সোহেল। গণপিটুনিতে এই চাঁদাবাজের সহযোগী রাসেলও গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার নগরীর পাহাড়তলী রেলস্টেশন সংলগ্ন বাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ডবলমুরিং থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেল নিজেকে চট্টগ্রামের এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগী বলে দাবি করতেন। তিনি ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আসা মালবাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তবে গতকাল সোমবার থেকে হঠাত্ করে তারা গাড়ি প্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে বলে ঘোষণা দেন। চাঁদার টাকা দ্বিগুণ হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ীরা ভয়ের খোলস থেকে বেরিয়ে এবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। এসব ব্যবসায়ীদের ক্ষোভকে পাত্তা না দিয়ে গতকাল সকালের দিকে সোহেলের লোকেরা চাঁদার জন্য বেরিয়ে পড়ে। নতুন               ‘রেট’ অনুযায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ওসমান খান নামে এক ব্যবসায়ীর মাথা ফাটিয়ে দেয় চাঁদাবাজরা। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশের জন্য জড়ো হওয়া শত শত ব্যবসায়ী ও  শ্রমিক এবার সোহেলের আস্তানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় জনতা সেখান থেকে সোহেল ও রাসেলকে ধরে এনে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল বাজারে গেলে তারা বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়ে। ইতিমধ্যে পিটুনিতে সোহেলের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা বাজারের দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সোহেল ও তার অনুসারীরা বাজারের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাত। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আস্তানায় ধরে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। গণপিটুনিতে সোহেলের মৃত্যু হওয়ায় সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বলে ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেছেন।