বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সুইডেনের স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস ২০২০। শনিবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেলে দূতাবাস মিলনায়তনে জাতির পিতা ও তাঁর শহীদ পরিবারবর্গের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতির পিতার সংগ্রামমুখর জীবন, আদর্শ ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং সুইডিশ সরকারের নির্দেশনানুযায়ী প্রাক-নিবন্ধনের মাধ্যমে কমিউনিটি সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বিকেলে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অত:পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে উপস্থিত সুধীবৃন্দ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক নিবেদনের মাধ্যমে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তারা।
দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়মা রাজ্জাকীর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত কমিউনিটি সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেন। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অসামান্য আত্মত্যাগ-এর কথা গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন যে, ঘাতকরা ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে হত্যা করতে সমর্থ হয় নি। বক্তারা বর্তমান সরকারের অধীনে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিশেষত করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং ১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশের উন্নয়নে অধিকতর অবদান রাখার প্রয়াস ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির মহান স্বাধীনতার রূপকার। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। সদ্য স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই সপরিবারে তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালির অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। ১৫ আগস্ট এর কলঙ্কময় রাতে বাঙালি জাতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কখনোই পূরণ হবার নয়। রাষ্ট্রদূত এবারের মুজিববর্ষে জাতির পিতার আত্মত্যাগের মহিমা ও আদর্শকে সকলের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত করার আহবান জানান এবং একই সাথে জাতির পিতার চেতনা ও দেশপ্রেম হৃদয়ে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে জাতির পিতার গৌরবোজ্জ্বল কর্মময় জীবনের উপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রসমূহ প্রদর্শিত হয়। পরিশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পাঠ করা হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
