বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ১৩১ বছরের পুরনো আইন ‘দ্যা স্মল কজ কোর্টস অ্যাক্ট’ বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই আইনের কার্যকারিতা না থাকায় তা বিলুপ্তির সুপারিশ করে আইন কমিশন। সুপারিশে বলা হয়, ১৮৮৭ সালে প্রণীত এই আইনে নির্দিষ্ট মূল্যমানের বিভিন্ন শ্রেণির দেওয়ানি মামলা বিচারের এখতিয়ার এ আইনের অধীনে গঠিত আদালতের ছিল। কিন্তু বর্তমানে কেবল বাড়িভাড়া সংক্রান্ত মামলাই এ আদালতে দায়ের করা হয়। কমিশন বলছে, ছোট ছোট দেওয়ানি বিরোধ সহজে, স্বল্প খরচে ও দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আইনটি প্রণয়ন করা হলেও এতে মামলা নিষ্পত্তির কোনো সময়সীমা না থাকায় বছরের পর বছর মামলা পড়ে থাকছে। এতে মামলার পক্ষগণ অপূরণীয় ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে সকল বাস্তবতার নিরিখে এই আইনটির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
কমিশনের এই সুপারিশ সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা জেলা জজ ফাউজুল আজিম। তিনি বলেন, বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। ফলে ১৫০ বছরের পুরনো আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে এ সুপারিশ করা হয়।
তত্কালীন ভারত সরকার ১৮৮৭ সালে ‘দ্যা প্রভিন্সিয়াল স্মল কজ কোর্টস অ্যাক্ট’ নামক আইনটি প্রণয়ন করে। এই আইনে গঠিত আদালতে ছোট ছোট বিষয়ে জনগণ স্বল্প খরচে দ্রুততার সাথে মৌলিক ন্যায় বিচার পান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রভিন্সিয়াল শব্দটি বাদ দেয়া হয়। কিন্তু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কালক্রমে আইনটি কার্যকারিতা হারায় বলে মনে করে আইন কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও সদস্য সাবেক বিচারপতি এ টিএম ফজলে কবীর স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে (২০০৮-২০১৭) এই আইনের অধীনে ৪ হাজার ৬৬১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৫৯৭টি। বর্তমানে ৪ হাজার ৩১৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২ হাজার ৩৯২টি, সিলেটে ৭৮৫টি এবং চট্টগ্রামে ২২১টি মামলা বিচারাধীন থাকলেও অন্যান্য জেলায় এর সংখ্যা নগণ্য। ১১টি জেলায় এ আইনে অনেকদিন ধরে কোনো মামলা দায়ের হচ্ছে না। ফলে এসব জেলায় বর্তমানে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। এছাড়া ২৯ জেলায় ১ থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারাধীন সকল মামলাই বাড়িভাড়া সংক্রান্ত। এই আইনের অধীনে গঠিত আদালতের দেওয়ানি এখতিয়ার ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যেখানে গ্রাম আদালতের দেওয়ানি এখতিয়ার রয়েছে বর্তমানে ৭৫ হাজার টাকা।
