বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ফলে স্তব্ধ গোটা বিশ্ব। ভয়াল করোনা ভাইরাসের গ্রাসে বাদ যায়নি প্রাণের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও। বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ নেই কোনো শিক্ষার্থীদের কোলাহল, নেই কোনো প্রাণের স্পন্দন। জরাজীর্ণ বিষণ্নতায় মুখরিত ১৭৫ একরের প্রতিটি কোনা। সারি সারি লাল বাসের অপেক্ষায় এখন আর কেউ ভিড় জমায় না, টিএসসি কিংবা টং এর দোকানে গান আর চায়ের আসর বসায় না, হাজারো বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে কেউ আর সেমিনারে কিংবা ‘খাদেমুল হারামাইন ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে’ পড়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে না। চারদিকে এখন যেন পিনপয়েন্ট এর শব্দ অব্দি নেই। মহামারি কোভিড-১৯-এর ফলে এখন ক্যাম্পাসের আমতলায় ও সেই গণজমায়েত দেখা যায় না। শহিদ মিনারের সামনে ফুলের বাগানের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ ফটোশুট করতে আসে না।
ক্যাম্পাসে খাবারের দোকান গুলোয় আর শোনা যায় না ‘মামা বসেন, দিতাছি’। এখন কেউ আর বাসের সিট ধরতে তাড়াহুড়ো করে না, খাতা কিংবা বই রেখে যায় না সিটে। ক্লাস রুমগুলো আজ নিস্তব্ধ, বোর্ড আর বেঞ্চগুলো ধুলোমাখা। জিয়া মোড় থেকে আর কোনো স্লোগান ভেসে আসে না। খেলার মাঠে আর কেউ আগে আগে খেলার জন্য তাড়াহুড়ো করে স্ট্যাম্প গেড়ে আসে না। ফুসকাওয়ালা মামাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় না। বাদামওয়ালা মামাকে বলা হয় না ‘মামা’ আর দুটো বেশি দিন না! ফটোস্ট্যাট দোকান গুলোয় আর কেউ জমায়েত করে না, বলে না ‘মামা, অ্যাসাইমেন্ট বাইন্ডিং করে দিন, বইগুলো ছাপিয়ে দিন, এফোর সাইজের পেপার দিন। হলগুলোর ডাইনিং ফাঁকা, রুমগুলোর তোষক কিংবা বেডগুলো ইঁদুর আর ওইপোকাদের দখলে। নিস্তব্ধ প্যারাডাইস রোড, এখন আর হিমু-রোপাদের দল দেখা যায় না সেখানে। মফিজ লেকে আর কারোর জন্মদিন পালন করা হয় না।
ক্যাম্পাসে এখন আর সেই ছোট্ট ছেলে মেয়েদের হাতে গুচ্ছ কদম কিম্বা শাপলা হাতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা মেলে না। বন্ধুদের সঙ্গে আর অনুষদের নিচে আড্ডা দিতে দেখা যায় না, যায় না কুশল বিনিময় করা। ইবির ক্যাম্পাস যেন এখন পুরো নীরব, নেই কোনো চঞ্চলতা আর প্রানোচ্ছলতা। সেই সঙ্গে নিস্তব্ধ যেন ইবিয়ানরাও। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ফলে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় প্রত্যেক ইবিয়ান। অপেক্ষায় শুধু প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার, নিস্তব্ধ পূর্ণ ইবিকে প্রাণবন্ত করার।
