চলতি বছরে গ্রিডে যুক্ত হবে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

নতুন বছর ২০১৯ সালে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নতুন করে যুক্ত হবে। নির্মাণাধীন কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্র থেকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিদ্যুত্ উত্পাদন শুরু হবে।

বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে স্থাপিত কেন্দ্রগুলোর মোট উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। আমদানিসহ দৈনিক বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায় প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উত্পাদন হয়েছে গত ১৯ সেপ্টেম্বরে, ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। এদিকে বর্তমানে ৩৫টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে পটুয়াখালীর পায়রায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুেকন্দ্রটি উত্পাদনে আসবে।

বিদ্যুত্ বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো অনেকটাই বাস্তবায়িত ও সফল। গত এক দশকে বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা বেড়েছে চার গুণ। আর বিদ্যুতের গ্রাহক বেড়েছে তিন গুণ। ৯২ শতাংশ জনগণ বিদ্যুেসবা পাচ্ছে। এখন বড় প্রকল্পগুলো দ্রুততর সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলসহ দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

গত ১ জানুয়ারি বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৯ সালের প্রথমভাগেই শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুেসবা পৌঁছে দিতে পুরোদমে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সবার কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়াটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর গ্রিডে নতুনভাবে যুক্ত হতে যাওয়া বিদ্যুতের মধ্যে ২ হাজার ৬০৫ মেগাওয়াট সরকারি প্রকল্প থেকে এবং ২ হাজার ৩৪২ মেগাওয়াট বেসরকারি প্রকল্পগুলো থেকে আসবে।

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রথমে উত্পাদন শুরু করতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুত্ কেন্দ্র। পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি থেকে বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও চীনের সিএমসির যৌথ মালিকানাধীন বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এছাড়া বাগেরহাটে ও গাজীপুরে ফার্নেস তেলভিত্তিক দুইটি কেন্দ্রে আগামী ফেব্রুয়ারিতে উত্পাদন শুরু হবে। এ দুই কেন্দ্রের প্রতিটির উত্পাদন ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট। একই সময়ে কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের ৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র থেকেও উত্পাদন শুরুর কথা রয়েছে। ঘোড়াশালে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্রের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী মে-জুন মাসে এটি চালুর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাইতে শাহজিবাজার ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হবে। মিরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট, ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট ২০৬ মেগাওয়াট এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রগুলো আগস্ট মাসে উত্পাদন শুরু করবে। এদিকে সক্ষমতা বাড়িয়ে সিলেট ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র উত্পাদনে আসবে ডিসেম্বরের আগেই। এটি আগে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল।

বেসরকারি খাতের যে কেন্দ্রগুলো এ বছর উত্পাদন শুরু করবে তার মধ্যে রয়েছে শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র। এটি আগামী ফেব্রুয়ারিতেই চালু হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৩০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র এপ্রিলে, পটিয়ায় ৫৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্র জুনে এবং সিরাজগঞ্জে ১৩২ মেগাওয়াটের কেন্দ্র আগস্টে উত্পাদন শুরু হবে। শিকলবাহা ১১০ মেগাওয়াট এবং টাঙ্গাইল ২২ মেগাওয়াট কেন্দ্র নির্মাণের কাজ মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ফার্নেসভিত্তিক ৫টি কেন্দ্র জুনের মধ্যে উত্পাদন শুরু করবে বলে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। এগুলো হলো- বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট, চৌমুহনী ১১৩ মেগাওয়াট এবং ভৈরব ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র। মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট, চাঁদপুর ১১৫ মেগাওয়াট এবং জামালপুর ১১৫ মেগাওয়াট উত্পাদনে আসবে জুলাইয়ে। কাঞ্চন ৫৫ মেগাওয়াট, পটিয়া ১১৬ মেগাওয়াট, ভোলা ২২০ মেগাওয়াট এবং ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা যাবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালে ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সালে ৫৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এক দশকের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলটি।