টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড বিস্ফোরণ
সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ১৪ বছর পূরণ হলেও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাননি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার ক্ষত চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন টেংরাটিলার মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, এখনো ঐ এলাকার নলকূপসহ বিভিন্ন ফাটল দিয়ে গ্যাস উদগীরণ হয় এবং যেখানে সেখানে আগুন জ্বলে। এখানের গ্যাসের বুদবুদ বর্ষার মৌসুমে দৃশ্যমান হয় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি শেষ রাতে টেংরাটিলার গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কুপের রিগ ভেঙে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল। এক মাসেরও বেশি সময় সেটি জ্বলার পর নিভে যায়। একই বছরের ২৩ জুন আবারো রাত ২টায় দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরেও ভূ-কমপন অনুভূত হয়। প্রথম দফার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসফিল্ডের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায়। পুড়ে যায় কমপক্ষে ৫২ বিলিয়ন কিউসেক রিজার্ভ গ্যাস। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুড়ি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি।
টেংরাটিলার আশপাশের গ্রামের ফাটল দিয়ে ১৪ বছর আগে শুরু হওয়া গ্যাস উদগীরণ আজও অব্যাহত আছে। এর প্রভাবে এলাকার জীব-বৈচিত্র্য ক্রমেই বিনষ্ট হচ্ছে এবং বাসিন্দারা শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানান টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদ সিলেটের সভাপতি নুরুল আমিন। তিনি বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দু’দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খননকারী প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো যে ক্ষতি করেছে তা কোনো দিন পূরণ হবে না। স্থানীয়রা জানান, তারা প্রথম অবস্থায় যতসামান্য ক্ষতিপূরণ পেলেও কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো অগ্নিকাণ্ডের পর সিঙ্গাপুর থেকে বিপুল অঙ্কের বীমার টাকা আদায় করে নিয়েছে। গ্যাসফিল্ড এলাকা টেংরাটিলা, আজবপুর, কৈয়াজুড়ি, শান্তিপুর ও গিরিশ নগরের অনেক পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। নূরুল আমিন জানান, বছর দু’য়েক আগে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড পরিদর্শনে আসেন তত্কালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। কিন্তু টেংরাটিলা সমপর্কে আর কোনো তথ্য সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সম্প্রতি নাইকো মামলার আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে স্থানীয় এলাকাবাসী।
