রহনপুর-সিঙ্গাবাদ রেলরুট হতে পারে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের দ্বার

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২০, ২১:২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর-ভারতের সিঙ্গাবাদ রেলরুট দিয়ে নেপালকে বাংলাদেশের ট্রানজিট দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবরে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের দ্বার খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন হলে নেপাল এ রুট দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করতে পারবে। ইতিপূর্বে নেপাল এ রুটে মোংলাবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত সার পরিবহন করেছে। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত রহনপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করে এ রুট দিয়ে তারা নেপালের সীমান্তবর্তী স্টেশন বীরগঞ্জ ও রক্সাল পর্যন্ত রেল পথে পণ্য পরিবহন করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। এছাড়া ভারতও এ রুট দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যা বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ রুট দিয়ে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে পণ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি ভারত ও নেপালে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্টেশন রহনপুর থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী স্টেশন সিঙ্গাবাদের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। আর সিঙ্গাবাদ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা মালদার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ-ভারতের জিরো পয়েন্ট শিবরামপুর থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে নেপালের সীমান্তবর্তী স্টেশন বীরগঞ্জের দূরত্ব ২১৭ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে রেলপথে নেপালের দূরত্ব কম হওয়ায় এ রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে নেপালের আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া ভারতের মালদার দূরত্ব কম হওয়ায় এবং সেখান থেকে সহজেই ভারতের বিভিন্ন স্থানসহ নেপালে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এ রুটে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হলে তিন দেশের জনসাধারণ উপকৃত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা আশরাফুল ইসলাম আশরাফ জানান, রহনপুর রেল বন্দরে রেলওয়ের পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও এটিকে পূর্ণাঙ্গ রেল বন্দরে পরিণত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ রেল বন্দর দিয়ে নেপালকে ট্রানজিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রেল বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করতে হবে। যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হলে এখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস স্টেশন নির্মাণ করতে হবে। রহনপুর রেল বন্দরের স্টেশন ম্যানেজার (২) মামুনুর রশিদ জানান, গত অর্থবছরে রেলওয়ের এ রুট দিয়ে আমদানি করা পণ্য পরিবহন করে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আয় করেছে। ইঞ্জিন ও ইয়ার্ড সংকটের কারণে প্রতিদিন দুইটি করে র্যাক ভারত থেকে নেওয়ার কথা থাকলেও তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান ও গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস জানান, রহনপুর রেল বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রেল বন্দরে পরিণত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। এছাড়া এ রুট দিয়ে নেপালকে ট্রানজিট দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়ে অচিরেই ভারত ও নেপালের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের দাবি জানান।