মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেললেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন। এটাকে ঐতিহাসিক বলা হয়েছে। তবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক থেকেই এটা ঐতিহাসিক হতে পারে। ফিলিস্তিনরা বলছে, এটা তাদের পিঠে ছুরিকাঘাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, দখলদারিত্বের বদলে শান্তি। ইসরাইলের জন্য এটা এক কূটনৈতিক অভ্যুত্থান এবং ফিলিস্তিনের জন্য আরেকটি দুঃস্বপ্নের দিন। এর মাধ্যমে আরব বিশ্বে নতুন করে ক্ষত সৃষ্টি হলো। কারণ বিভিন্ন যুদ্ধে জড়ানো সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সহায়তায় এই অঞ্চলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা আছে।
g ট্রাম্প কার্ডে বিস্মিত সবাই
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুবই গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করেছেন। এমনকি ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নাকি এ বিষয়ে কিছু জানেন না! তাই বৃহস্পতিবারের এই ঘোষণায় সবাই বিস্মিত। ইসরাইল এবং ইউএইর মধ্যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প কার্ড খেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইল এবং আমিরাতের চুক্তি আমেরিকার ভোটেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, আমেরিকানরা ভোট দেন দেশীয় ইস্যুর দিকে লক্ষ্য রেখে। তারা বিদেশে যুক্তরাষ্ট্র কী করল তা নিয়ে মাথা ঘামান না। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও এই চুক্তি থেকে কতটা ফায়দা তুলতে পারবেন তা নিয়েও সংশয় আছে। কারণ ইসরাইলের সাধারণ মানুষ আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের চুক্তি ভালো চোখে নাও দেখতে পারেন। বিশেষ করে পশ্চিম ভূখণ্ড দখলের যে অঙ্গীকার নেতানিয়াহু করেছিলেন তা সফল না হলে ইসরাইলিরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন।
g দখলদারিত্বের বদলে শান্তি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে এই চুক্তিকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বরফ যেহেতু গলেছে এখন আমি আশা করব আরো অনেক আরব এবং মুসলিম দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনুসরণ করবে। ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী, আরো আরব রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। সৌদি আরব এই চুক্তি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিখ্যাত কলামিস্ট টমাস এল ফ্রিডম্যানের মতে, একটি ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকম্প মাত্রই আঘাত হেনেছে মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি মিশনের প্রধান হুশাম জলমত বলেন, এর মাধ্যমে ইসরাইলের দখলদারিত্ব আরো বৈধতা পাবে। এর মাধ্যমে বলে দেওয়া হলো, দখলদারিত্বের বদলে ইসরাইল আরব বিশ্বের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে পারবে। ইতিমধ্যে পশ্চিম তীরে ছয় লাখ ইসরাইলি ঘর তৈরি করেছে। তারা ফিলিস্তিনিদের ওপরই উলটো নির্যাতন করছে।
সামনের দিনগুলোতে ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস স্থাপন করবে। দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে যতরকমের সম্পর্ক থাকার কথা, সেরকম সম্পর্কের দিকে যাচ্ছে দুই দেশ। বস্তুত এই প্রথম কোনো আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই হলো ইসরাইলের। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের জন্মের পরে ১৯৭৯ সালে মিশর আর ১৯৯৪ সালে জর্ডানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছিল ইসরাইলের। এই চুক্তির পরিণামে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে প্রাণ দিতে হয়েছে। চুক্তির অর্থ উপসাগরীয় অঞ্চল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটে এবার নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, ইসরাইলকে স্বীকৃতির মাধ্যমে তার দেশ আসলে সাহসি পদক্ষেপ নিয়েছে, এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে সংযুক্ত করার যে পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইল আগাচ্ছিল, সেই টাইম বোমা থামিয়ে দেওয়া গেছে। যদিও ইসরাইলি সরকার বলছে, পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তারা বাদ দিচ্ছে না, স্থগিত রাখছে মাত্র।
