অনিয়মের জালে মানিকগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৪

অনিয়মের জালে বাধা পড়েছে মানিকগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থা। ঢাকা- আরিচা  মহাসড়কে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ও জেলার প্রাণকেন্দ্র শহীদ রফিক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এর উদাহরণ। প্রতিদিনই ট্রাফিক আইন অমান্য করে সকাল থেকে সন্ধ্যাপর্যন্ত মানিকগঞ্জ ট্রাফিক বক্সের পাশে ও ওভার ব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো চলছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও এভাবে রাস্তায় যাত্রী ওঠা-নামা করায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে গাড়ি রাখায় মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অবৈধভাবে পার্কিং করা গাড়িগুলোর স্টাফদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আগে থেকেই এভাবে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠাচ্ছি-নামাচ্ছি। এতে প্রশাসনের কোনো ধরনের বাধায় পড়তে হয় না বলেও তারা জানান। একটি বাস কোম্পানির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  সুপার ভাইজার জানান, আমি নতুন এসেছি। আমি এসেই দেখছি মানিকগঞ্জ ওভারব্রিজের নিচে বাসগুলো থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো রকম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না।   

শুধু মহাসড়কই নয়, মহাসড়ক থেকে  শহীদ স্মরণি সড়কের প্রায় এক হাজার মিটার (প্রবেশ মুখ থেকে সরকারি সদর হাসপাতাল গেট পর্যন্ত) রাস্তার দুই পাশ এবং ফুটপাত দখল করে স্ট্যান্ড বানিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

জেলার প্রাণকেন্দ্র শহীদ রফিক সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট লেগেই থাকে। অপরিকল্পিত  নগরায়ন, বিল্ডিং কোড না মেনে বাড়ি নির্মাণ ও নিয়ন্ত্রণহীন হ্যালোবাইক এবং ব্যাটারিচালিত  রিকশা চলাচলের কারণে মানিকগঞ্জ আজ যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার লাইসেন্সকৃত হ্যালোবাইকের সংখ্যা ৫৫০। কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বাড়ি বা মার্কেট করার সময় সামনে ৩ ফুট রাস্তা এবং নিচতলায় পার্কিং-এর ব্যবস্থা থাকার শর্ত সাপেক্ষে পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বাড়িওয়ালারা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে তাদের সুবিধা অনুযায়ী বিল্ডিং কোড ভঙ্গ করে বাড়ি নির্মাণ করে। পৌরসভা থেকে বিষয়টি মনিটরিং করার কথা থাকলেও তারা কার্যত তেমন ভূমিকা রাখে না। আর পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় মার্কেট, অফিস ও বাড়ির সামনের রাস্তায় লোকজনকে যানবাহন  রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জ বাজার,কালীবাড়ী ও জর্জকোর্ট ভবনের সামনে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। শহরে অবস্থিত একটি মহিলা কলেজ, সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কলেজ বা স্কুল শেষ হলে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে শুরু হয় যানজট। শহরে ফুটপাত না থাকায়  যানজটের কারণে মানুষের হাঁটা চলাতেও ব্যাঘাত ঘটছে। শহরের কোথাও হ্যালোবাইক বা রিকশাস্ট্যান্ড না থাকায় যেখানে-সেখানে তারা যাত্রী ওঠাচ্ছে- নামাচ্ছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জে জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো: ফারুক হোসেন জানান, আমরা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। আগামী এক মাসের মধ্যে তা চালু করা হবে। সে ক্ষেত্রে কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।