গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সর্বশেষ চুরি হওয়া ৪৯টি কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার সাত জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে কম্পিউটার চুরির মূল হোতা যুবলীগের নেতা পলাশ শরীফসহ আরো অনেকের নাম এসেছে। তবে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চুরি হওয়া ৯৭টি কম্পিউটারের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি।
গতকাল রবিবার গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, গত ২৬ জুলাই গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছে রাখা হয়। পরে একটি ট্রাকে করে সেগুলো ঢাকায় নিয়ে যুবলীগের নেতা পলাশ শরীফের মালিকানাধীন মহাখালীর ক্রিস্টাল ইন হোটেলে রাখা হয়। পরে ১৩ আগস্ট রাতে গোপালগঞ্জ ও ঢাকার বানানী থানার পুলিশ ঐ হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার ও দুই জনকে গ্রেফতার করে। ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকা সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার গ্রেফতারকৃত সাত জন গোপালগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাসের আদালতে স্বাীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার চুরির মূল হোতা যুবলীগের নেতা পলাশ শরীফসহ আরো অনেকের নাম বলেছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে তাদের গ্রেফতার করতে পারলে ২৬ জুলাইয়ের কম্পিউটার চুরিসহ ২০১৭ ও ২০১৮ সালে প্রায় ১০০ কম্পিউটার চুরির বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতার হওয়া সাত জনের মধ্যে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার ইদ্রাকচর গ্রামের মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৪৫) ও ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার চোরখাই গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন কবিরকে (২৪) চোরাই ৩৪টি কম্পিউটারসহ ঢাকার ক্রিস্টাল ইন হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা, গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের অন্য সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের বিল্লাল শরীফের ছেলে মাসরুল ইসলাম পনি শরীফ (২৩), একই উপজেলার বরফা শেখপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আ. রহমান সৌরভ শেখ (১৯), বরফা মধ্যপাড়ার আইয়ুব শেখের ছেলে হাসিবুর রহমান শান্ত ওরফে কাকন (১৯), বরফার কামাল পাশা মিনার ছেলে নাইম উদ্দিন (১৯) এবং মাদারীপুরের রাজৈর থানার বিশমপুরদী এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাসানকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে ১৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন দফায় ১৪৬টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ৫০টি, ২০১৮ সালে ৪৭টি এবং এ বছর ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হলো।
