বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র চালতা গাছ জন্মে। টক ফল চালতার আচার, চাটনি, টক ডাল অনেকেরই প্রিয় খাদ্য। চালতায় রয়েছে ক্যালসিয়াম, শর্করা, আমিষ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, থায়ামিন ও রিবোফ্লাবিন। চালতা শরীরে যেমন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে, তেমনি পুষ্টি পূরণেও রাখে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। চালতার কিছু ওষুধি গুণাগুণ তুলে ধরা হলো—
ত্বক উজ্জ্বল করে :চালতার রসের সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করলে মরাকোষ পরিষ্কারের পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল হয়ে ওঠে।
ত্বকের কালচে ভাব দূরীকরণে :চালতার রসের সঙ্গে চিনির গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকের কালো অংশগুলোতে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট হালকা মেসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়।
বলিরেখায় :চালতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে তাতে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই টোনার ত্বকে বলিরেখা পড়া বিলম্বিত করে।
চুলপড়া ও খুশকিতে :কাঁচা চালতার কষ পানিতে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় নিয়মিত লাগালে চুলপড়া কমে। কাঁচা চালতার রসের সঙ্গে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে সপ্তাহে দু’বার চুলের গোড়ায় লাগালে খুশকি দূর হয়।
কিডনি রোগে :নিয়মিত চালতা খেলে কিডনি ভালো থাকে এবং সহজে কেউ কিডনির কোনো রোগে আক্রান্ত হয় না।
বাত রোগে :৩০ গ্রাম কচি চালতা বেটে এক গ্লাস ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বাত রোগে উপকার পাওয়া যায়। হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমাতেও চালতা খাওয়ায় সুফল মিলে।
পিত্ত বাড়লে :কচি একটি চালতা ছোট ছোট টুকরো করে ১২০ মি. লিটার পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে। পানি আধা কাপ পরিমাণ হয়ে এলে ঠান্ডা করে খেতে হবে। এভাবে দিনে একবার করে টানা কিছুদিন খেতে হবে।
কফ ও সর্দিতে :চালতা গাছের শুকনো ছালের এক গ্রাম গুঁড়ো ও এক চামচ চিনি বা মিছরি, আধা কাপ সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর প্রতিদিন একবার করে খেলে সর্দি ও কফ দূর হয়।
রক্ত পরিষ্কারে :কুসুম গরম পানিতে দুই চামচ চালতার রস সামান্য চিনি মিশিয়ে টানা কমপক্ষে ছয় মাস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। এছাড়াও চালতায় থাকা আয়রন রক্তের লোহিত কণিকার কার্যক্রমে সহায়তা করে। যা রক্তের সংবহন ঠিক রাখে।
ঠান্ডাজনিত জ্বরে :পাকা চালতার ৩০ মি. লিটার রস, তিন চামচ চিনি, ৭০ মি. লিটার পানি একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে ঠান্ডাজনিত জ্বরের প্রকোপ কমে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে :চালতায় রয়েছে বিশেষ ধরনের কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
এছাড়াও চালতা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় চালতা স্কার্ভি ও লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে। চালতায় থাকা আঁশ বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ঠান্ডা ও কাশির জন্য পাকা চালতার রস চিনি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। চালতার বিভিন্ন উপাদান হার্টের নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। চালতার পাতা দধির সঙ্গে গরুকে খাওয়ালে রক্ত আমাশয় উপশম হয়।
