সোনারগাঁওয়ে যুবলীগ নেতা আলী হত্যা মামলায় বাদির নারাজি, তদন্তে সিআইডি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী (৩০) নামের যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেছেন মামলার বাদি। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে অধিকতর তদন্তের জন্য নারাজি পিটিশন দাখিল করেন মামলার বাদি নিহতের মা শিউলী বেগম। শুনানিশেষে আদালত মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এদিকে সোমবার শুনানিশেষে আদালতপাড়ায় বাদি ও তার ভাইকে মারধরসহ তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামিনে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদি।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এএসআই শহীদুল ইসলাম জানান, বাদির নারাজি পিটিশনের প্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিআইডিকে নির্দেশ দেন। নারাজি পিটিশনে বাদি শিউলী বেগম উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে আফজালের নাম বাদ দিয়েছেন। অথচ মামলার ১নং আসামি মোশারফ মেম্বার, অপর দুই আসামি পনির ও বাহাউল তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আফজালের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়া চার্জশিটে যাদেরকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে তাদের অধিকাংশই আসামিপক্ষের আত্মীয়-স্বজন। এর মধ্যে ১৩নং সাক্ষী আব্দুল গাফফার আসামি নোয়াবের আপন বোনের স্বামী। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেই অস্ত্রগুলো জব্দ করেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের ফলাফল বাদিকে অবগত করেননি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চার্জশিট প্রদান করেছে বলে বাদি নারাজি পিটিশনে উল্লেখ করেন। তিনি মামলাটি অধিকতর তদন্তের দাবি জানান।

অপরদিকে পুলিশ সুপারের বরাবরে দাখিলকৃত অভিযোগে বাদি উল্লেখ করেন, সোমবার সকালে আদালতে শুনানিশেষে  সেখান থেকে বের হওয়ার পর আদালতপাড়ায় মামলার বাদি শিউলী বেগম ও তার ভাই জাকির হোসেনকে আসামি মোশারফ মেম্বার, দিপু, শান্ত, জসিম, কবির, আবু সাঈদ, হাবিব, জসিম মিলে মারধর করে এবং তার ভাই জাকির হোসেনকে ১নং আসামি মোশারফ মেম্বার হুমকি দেয়- ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে জাকিরকে জবাই করে হত্যা করা হবে।’ তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্যও হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর এলাকাতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বিরোধের জের ধরে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলীকে (৩০) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে বালু সন্ত্রাসীরা। নিহত মোহাম্মদ আলী উপজেলার সাহাপুর গ্রামের এলাকার মৃত আরজান আলীর ছেলে। তিনি মায়ের সাথে মামা জাকির হোসেনের সাথে বসবাস করতেন। তার মামা পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হওয়ার সুবাদে তিনি যুবলীগের রাজনীতি করতেন। তবে তার কোন পদ ছিল না।