শ্রীলঙ্কায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকায় গ্রেফতার চয়েজ রহমানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এর আগে চয়েজ রহমানকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিআইডি’র একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চয়েজ রহমান এশিয়ার অনেক দেশের মাদক পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাদক পাচারের রুট নিয়ন্ত্রণ করে উত্তরায় একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে জমা রয়েছে কোটি কোটি টাকা।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ২৩০ কেজি হেরোইন ও পাঁচ কেজি কোকেনসহ দুই জন বাংলাদেশি গ্রেফতারের ঘটনায় গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ থেকে একটি অপরাধ বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ কারণে শিগগিরই একটি বিশেষজ্ঞ দল শ্রীলঙ্কায় যাবে। প্রতিনিধি দলটিতে গোয়েন্দা বাহিনীতে মাদক দমনে যারা কাজ করেন, যারা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রকে মনিটরিং করেন এমন সদস্যদের রাখতে বলা হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফারহান বলেন, চয়েজ রহমানের কাছ থেকে মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, কলম্বোতে গ্রেফতার হওয়া বগুড়ার জামাল উদ্দিন ও জয়পুরহাটের দেওয়ান রফিউল ইসলামের সঙ্গে চয়েজ রহমানের যোগাযোগ ছিল কিনা-তা তদন্ত করা হচ্ছে। তার পাসপোর্টের মাধ্যমে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, নেপাল, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার অন্তত ২০টি দেশ বহুবার ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
