‘চোর শোনে না ধর্মের কাহিনি ’—এমন প্রবাদ বহুদিনের। ঠিক তাই আবারও সত্য প্রমাণিত করলেন মানিকগঞ্জের কথিত ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার। এক মাস আগে গত জুলাইতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত অভিযানে জয়ন্ত কুমার সরকার ভুয়া চিকিত্সক হিসেবে প্রমাণিত হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনবিহীন চিকিত্সাসেবা, রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অঢেল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম পায় আদালত। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতে আর অনুরূপ কাজ করবেন না মুচলেকা দিলেও জেল থেকে বেরিয়েই জয়ন্ত কুমার তড়িঘড়ি ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় প্রতারণার নতুন আস্তানা গড়েছেন ।
জানা গেছে , জেলার সাতটি উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজস্ব দালাল নিয়োজিত রয়েছে প্রতারক জয়ন্ত সরকারের। দালালরা ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসোহারা পেয়ে থাকে। বিনিময়ে তারা সহজ সরল রোগীদের ভুলিয়ে ভালিয়ে জয়ন্তর চেম্বারে পৌঁছে দেয়। একেকজন রোগীকে কম করে হলেও সপ্তাহে ৩/৪ হাজার টাকার বিল ভাউচার ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও যাবতীয় ওষুধপথ্য তার নিজ ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য করা হয়। চিকিত্সাসেবার নামে এহেন প্রতারণা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
জয়ন্ত কুমার সরকারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তার নামের আগে ডা. লেখার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিক আইনের ধারায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি কোনো ক্লিনিক পরিচালনা করেননি। তার একটি এনজিও আছে, যা লাইসেন্সপ্রাপ্ত। তার মাধ্যমে তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। আইনের বাইরে তিনি কিছুই করেননি। একই সঙ্গে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানাকে বেআইনি বলেও আখ্যা করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, জয়ন্ত কুমার এক জন চতুর লোক। হাসপাতাল এবং ক্লিনিক আইনে যাকে তাকে আটকানো না যায় সে জন্য তিনি এজেন্টদের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করেছেন। তার বিষয়ে পুনরায় অভিযোগ এসেছে। অতি দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
