রাজধানীর টিকাটুলীতে অভিসার সিনেমা হলের কাছে আবাসিক এলাকায় বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল মজুতের অভিযোগে গতকাল সোমবার বিকালে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের সহযোগিতায় র্যাব-৩ এই অভিযান চালায়। র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অবৈধভাবে এসব কেমিক্যাল মজুত করার অপরাধে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু ইত্তেফাককে বলেন, অভিযানে আমরা দেখেছি, ১০তলা একটি আবাসিক ভবনের নিচে কেমিক্যালের গুদাম তৈরি করা হয়েছে। এই গুদামে আইসোপ্রোফাইল অ্যালকোহল, ইথানল, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডসহ ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক পণ্য মজুত করা হয়েছে। কিন্তু এসব মজুতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা লাইসেন্স তাদের নেই। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিস্ফোরক পণ্য মজুতে যে ধরনের ব্যবস্থা থাকা অত্যাবশ্যক, সে ধরনের ব্যবস্থাও সেখানে দেখা যায়নি।
আবাসিক ভবনে এ ধরনের বিস্ফোরক পণ্যের অবৈধ মজুত থেকে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এই মজুতে জড়িত।
পরে র্যাবের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩ জানতে পারে, ঢাকা মহানগরীর ওয়ারী থানাধীন হাটখোলা রোড, আবাসিক ভবনের (২৭ রাসেল সেন্টার) নিচ তলায় ইয়াছিন সাইন্টিফিক স্টোর এবং যমুনা সাইন্টিফিক স্টোরের ভেতর লাইসেন্সবিহীন বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, হাইলি এক্সপ্লোসিভ পদার্থ, দাহ্য পদার্থ এবং বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহূত টুলুইন নামক একটি বিশেষ পদার্থ গুদামজাত করে রেখেছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের দল সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অবৈধভাবে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ ইথানল, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, হাইড্রোফ্লোরিক অ্যাসিড, ফরসিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, ড্রাই মিথাইল সালদো, মিথানল এবং টুলুইন জব্দ করা হয়।
পরে আলামতসহ ইয়াছিন সাইন্টিফিক স্টোরের মালিক আবদুস ছালাম (৬২), ম্যানেজার নূর হোসেন (৬৫) এবং কর্মচারী শাহীনকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিসিআইসি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ লাইসেন্স বিহীনভাবে এইসব অবৈধ কেমিক্যাল, হাইলি এক্সপ্লোসিভ পদার্থ, দাহ্য পদার্থ এবং বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিপজ্জনক পদার্থ গুদামজাত করে আসছে। এসব পদার্থ অত্যন্ত বিপজ্জনক যা যে কোনো মূহুর্তে আবাসিক এলাকায় যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে, যা জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে রাখা কেমিক্যাল বিস্ফোরণে ৭৮ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন কেমিক্যাল গুদাম সরাতে অভিযান চালায় বিভিন্ন সংস্থা।
