করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতেই স্বাভাবিক হচ্ছে নগরজীবন

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ০৩:০৪

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে নগরের জনজীবন। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতা। শারীরিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই নেই। অধিকাংশ মানুষই এখন আর পরে না হ্যান্ড গ্লোভস। এমনকি অনেকে পরেন না মাস্কও। কেউ কেউ আবার পরলেও মাস্ক নামিয়ে রাখেন নাক-মুখের নিচে।
 
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে অনেকটা গাছাড়া ভাব। কিছুদিন আগেও বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ঢুকতে মাপা হতো তাপমাত্রা, হাতে থাকত স্যানিটাইজার। কিন্তু এখন আর এসবের কড়াকড়ি নেই। তবে কিছু শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করলেও জনসাধারণের অতিরিক্ত উদাসীনতায় তা মানা কষ্টসাদ্য হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিউমার্কেট, চাঁদনীচকে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা থাকলেও কিছু মানুষ পাশকাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। যেন এসব নিয়ম-কানুন কাজের কিছু না। দোকানে বিক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই, হাতে গ্লোভস নেই, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখারও বালাই নেই। মহামারি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই স্বাভাবিক হচ্ছে নগরজীবন।

সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ছোট-বড় মার্কেট, শপিংমলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক সময়ের মতো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে করোনা ভয়কে জয় করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে মানুষকে। জানা গেছে, আগামী মাসের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়া হবে।

চাঁদনীচকের গেটে কথা হয় মীরপুর থেকে আসা আনোয়ারা সামসের সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনারে এতো ভয় পেলে কি জীবন চলবে? জীবন তো থেমে থাকছে না। আমার শ্বাসকষ্ট আছে, তাই মাস্ক পরে থাকতে পারি না। দমবন্ধ হয়ে আসে। আজ এসেছি ছোট বোনের বিয়ের শপিং করতে। তিনি বলেন, এমন কারণে কী ঘর থেকে না বের হয়ে বসে থাকার সুযোগ আছে?

এদিকে বসুন্ধরা শপিং মলে আড়ং শো রুমে ঢুকতে দেখা যায়, রেজিস্ট্রেশন করে প্রবেশ করতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে শপিং শেষ করতে বলা হলেও তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করছেন। যমুনা শপিংমলেও দেখা যায়, দীর্ঘলাইন ধরে সবাইকে শরীরের তাপমাত্রা মাপিয়ে প্রবেশ করান হচ্ছে, তবে শপিংমলের ভেতরে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে ৫১৪ জন। অর্থাত্ গড়ে প্রতিদিন ২ হাজার ৪৫৭ জন আক্রান্ত ও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৯১৮ জন।

এ সময়ে মারা যায় ১ হাজার ২১৪ জন। অর্থাত্ ঐ মাসে গড়ে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৫ জন ও মৃত্যু ৩৯ জন। সে হিসেবে চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমেছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৬৫৭ জনের।

ইত্তেফাক/এসআই